বিরোধীদের বিরুদ্ধে জোড়া আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এক দিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে তাঁর দাবি, নেতিবাচক রাজনীতির কারণে ২০৩০ সালেও নির্বাচনে জিততে পারবে না কংগ্রেস। অন্য দিকে, আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়ালকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শাহের দাবি, পঞ্জাব থেকে আপ সরকারকে উৎখাত করবেন সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনে কারচুপি এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কংগ্রেসের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে শাহ বলেন, ‘‘রাহুল গান্ধীকে বলতে চাই, অনুপ্রবেশকারীদের ভোট বাঁচাতেই ভোটচুরির অভিযোগ তুলছেন আপনি।’’ তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার অনেক আগে থেকেই দেশের একাধিক রাজ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে কংগ্রেস। নির্বাচনে হারলেই কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শাহের কথায়, ‘‘যে ভাবে আপনারা নেতিবাচক রাজনীতি করছেন, তাতে ২০৩০ সালেও নির্বাচনে জিততে পারবেন না। যেখানে আপনারা জেতেন, সেখানে নির্বাচন কমিশন ঠিক কাজ করে। আর হারলেই কমিশনকে দোষারোপ করা হয়।’’ এর পরেই কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে তাঁর দাবি, আগামী ৩০ বছরেও ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ পাবে না দলটি।
এর পরেই কেজরীওয়ালকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আন্দোলন ও বিক্ষোভের রাজনীতি করতেই ব্যস্ত ছিলেন। অথচ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা আবর্জনার পাহাড় সরাতে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেননি। শাহের হুঁশিয়ারি, পঞ্জাবের মানুষ ভোটের মাধ্যমে আপ সরকারকে উপযুক্ত জবাব দেবেন এবং সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেবেন।
দিল্লির আবর্জনা সমস্যা প্রসঙ্গে শাহ জানান, কেন্দ্রীয় সরকার শহরের জঞ্জালের স্তূপ সরিয়ে সেই জায়গাগুলিকে সুন্দর জনউদ্যানে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
এ দিন দিল্লির দ্বারকায় যমুনা নদী পরিষ্কার এবং পানীয় জলের পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে দিল্লি জল বোর্ডের ৪৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন শাহ। প্রকল্পগুলির মোট ব্যয় ৮,৯৪১ কোটি টাকা। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদী সরকারের উদ্যোগে যমুনা পুনরুজ্জীবনের কাজ ইতিমধ্যেই অনেকটা এগিয়েছে। বর্জ্যজল পরিশোধন এবং পানীয় জলের সরবরাহ উন্নত করার এই প্রকল্পগুলি রাজধানীর পরিকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও জানান তিনি।