5G ফোন কেনার জন্য একসময় ছিল হুড়োহুড়ি। দ্রুত ইন্টারনেট, উন্নত নেটওয়ার্ক আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি- সব মিলিয়ে ক্রেতাদের বড় আকর্ষণ ছিল 5G স্মার্টফোন। কিন্তু এবার ছবিটা কি বদলাচ্ছে? ফোনের দাম বাড়ছে। বাজেট স্মার্টফোনে মেমোরি ও চিপসেটের খরচ বাড়ছে। অন্যদিকে, 5G ব্যবহার করতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে বেশি দামের রিচার্জ প্ল্যান বেছে নিতে হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে- বাড়তি টাকা খরচ করে ৫জি ফোন কেনা কি সত্যিই লাভজনক, নাকি 4G ফোনই এখনও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বেশি সাশ্রয়ী? বাজারের সাম্প্রতিক প্রবণতা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, কম দামের ফোনের বাজারে 4G মডেলের গুরুত্ব আবার বাড়ছে। কিন্তু এর পিছনে আসল কারণ কী? Airtel-এর মতো টেলিকম সংস্থার রিচার্জ নীতির সঙ্গে এর সম্পর্ক কোথায়?

5G ফোনের দাম বাড়ছে কেন?
প্রথমেই আসা যাক স্মার্টফোনের দামের কথায়। একটি বাজেট ফোন তৈরি করতে প্রসেসর, মেমোরি, স্টোরেজ এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশের খরচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক সময়ে মেমোরি ও চিপসেটের দাম বাড়ার চাপ পড়ছে স্মার্টফোন নির্মাতাদের উপর। বিশেষ করে ১৫ হাজার টাকার কম দামের ফোনের ক্ষেত্রে এই খরচ বৃদ্ধি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এই দামের ফোন কিনতে গিয়ে ক্রেতারা সাধারণত প্রতিটি টাকার হিসাব করেন। তাঁদের কাছে ফোনের দাম, ব্যাটারি, ক্যামেরা এবং পারফরম্যান্স- সবই গুরুত্বপূর্ণ। এবার এর সঙ্গে যদি 5G প্রযুক্তির জন্য অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হয়, তাহলে ফোনের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা নির্মাতাদের পক্ষে আরও কঠিন হতে পারে। ফলে কম দামের বাজারে সব ফোনে 5G দেওয়ার পরিবর্তে কিছু সংস্থা 4G মডেলের উপর বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।
কম দামে 4G ফোনেই কি বেশি সুবিধা?
ধরা যাক, আপনার বাজেট ১০ হাজার টাকা। এই দামে একটি 4G ফোনে যদি ভালো ব্যাটারি, পর্যাপ্ত স্টোরেজ এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ফিচার পাওয়া যায়, তাহলে শুধু 5G-র জন্য বেশি টাকা খরচ করার আগে আপনি দু’বার ভাবতেই পারেন। আবার ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার বাজারেও ক্রেতাদের কাছে ফোনের সামগ্রিক পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু 5G কানেক্টিভিটি রয়েছে কি না, তা দেখেই ফোন কেনা উচিত নয়। দেখতে হবে প্রসেসর, RAM, স্টোরেজ, সফটওয়্যার আপডেট এবং ফোনটি কত দিন ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে 5G ফোনের চাহিদা শেষ হয়ে গিয়েছে। বরং বাজেটের মধ্যে সঠিক ফোন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের হিসাব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
Airtel-এর রিচার্জ প্ল্যানের প্রভাব কোথায়?
এবার আসা যাক টেলিকম রিচার্জের কথায়। 5G ফোন থাকলেই যে প্রতিটি রিচার্জ প্ল্যানে আনলিমিটেড 5G ডেটা পাওয়া যাবে, এমন নয়। Airtel-সহ বিভিন্ন টেলিকম সংস্থা নির্দিষ্ট শর্তে 5G ডেটার সুবিধা দেয়। Airtel-এর ক্ষেত্রে আনলিমিটেড 5G ডেটার সুবিধা পেতে যোগ্য প্ল্যান বেছে নেওয়া জরুরি। অতীতে সংস্থাটি সাধারণত প্রতিদিন ২ জিবি বা তার বেশি ডেটা থাকা নির্দিষ্ট প্ল্যানের সঙ্গে এই সুবিধা যুক্ত করেছিল। ফলে কম দামের রিচার্জ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে বাড়তি খরচের প্রশ্ন সামনে আসে। আপনার ফোন 5G হলেও, যে প্ল্যান ব্যবহার করছেন তাতে যদি প্রয়োজনীয় 5G সুবিধা না থাকে, তাহলে সেই প্রযুক্তির সম্পূর্ণ সুবিধা নাও পেতে পারেন। অন্যদিকে, যাঁদের প্রধান কাজ WhatsApp, সাধারণ ব্রাউজিং, অনলাইন পেমেন্ট এবং মাঝেমধ্যে ভিডিও দেখা, তাঁদের কাছে 4G পরিষেবাই অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট হতে পারে।
সস্তার রিচার্জ কমলে বাড়বে কি খরচ?
টেলিকম বাজারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ARPU- অর্থাৎ Average Revenue Per User। সহজ ভাষায়, প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে গড়ে কত আয় হচ্ছে, সেটাই এই সূচক দিয়ে বোঝানো হয়। টেলিকম সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক কৌশলে ARPU বাড়ানোর গুরুত্ব রয়েছে। সেই কারণে ট্যারিফ বৃদ্ধি বা কম দামের কিছু প্ল্যানের পরিবর্তন গ্রাহকদের মাসিক খরচের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সব পুরনো প্ল্যান সব সংস্থার ক্ষেত্রে একইভাবে বন্ধ হয়েছে, এমনটা বলা ঠিক হবে না। রিচার্জের দাম ও সুবিধা সময়ের সঙ্গে বদলায়। তাই নিজের নম্বরের জন্য বর্তমানে উপলব্ধ প্ল্যান যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। যদি 5G ব্যবহারের জন্য আপনাকে নিয়মিত বেশি দামের প্ল্যান নিতে হয়, অথচ আপনার এলাকায় 5G নেটওয়ার্কের সুবিধা সীমিত, তাহলে সেই অতিরিক্ত খরচ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা ভেবে দেখা দরকার।
তাহলে 4G, না 5G- কোন ফোন কিনবেন?
এবার প্রশ্ন, আপনার জন্য কোনটি ভালো? যদি বাজেট সীমিত হয়, ফোনে মূলত কল, মেসেজ, UPI পেমেন্ট, সোশ্যাল মিডিয়া এবং সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাহলে ভালো মানের 4G ফোনও আপনার প্রয়োজন মেটাতে পারে। কিন্তু দ্রুত ডেটা, বড় ফাইল ডাউনলোড, অনলাইন গেমিং বা আগামী কয়েক বছর ফোনটি ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকলে 5G ফোন বিবেচনা করতে পারেন। তবে কেনার আগে তিনটি বিষয় অবশ্যই যাচাই করুন- আপনার এলাকায় 5G নেটওয়ার্ক আছে কি না, আপনার রিচার্জ প্ল্যানে 5G সুবিধা মিলছে কি না এবং ফোনের দাম আপনার বাজেটের মধ্যে রয়েছে কি না।
সব মিলিয়ে, 5G প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রত্যেক ক্রেতার জন্য বেশি টাকা খরচ করে 5G ফোন কেনা বাধ্যতামূলক নয়। একদিকে স্মার্টফোনের যন্ত্রাংশের খরচ বাড়ার চাপ, অন্যদিকে রিচার্জ প্ল্যানের শর্ত- দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মনে রাখবেন, ভালো ফোন মানেই শুধু 5G নয়। আপনার বাজেট, ব্যবহার এবং মাসিক রিচার্জের খরচের সঙ্গে যে ফোনটি মানানসই, সেটিই আপনার জন্য সঠিক পছন্দ।