
পানীয় জল থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহণ থেকে কৃষক-শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে বিধানসভায় বুধবার একগুচ্ছ ঘোষণা করলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। তাঁর ঘোষণায় রয়েছে মোট ৪৮০০ কোটি টাকার পানীয় জল প্রকল্প। একই সঙ্গে ২০২১ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন করার জন্য কৃষক ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার।
বিধানসভার ১১০ নম্বর বিধির অধীনে ঘোষণা করে বিজয় জানান, উত্তর চেন্নাই, আভাদি, পোন্নেরি এবং মিনজুরের পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে মিনজুরে ৪০০ এমএলডি ক্ষমতার একটি নোনা জল পরিশোধন কেন্দ্র তৈরি হবে। আভাদি পুরনিগম এলাকায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিটি বাড়িতে ২৪ ঘণ্টা পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে।
মাদুরাই ও কুড্ডালোর পুরনিগম, ন’টি পুরসভা এবং ২০টি নগর পঞ্চায়েতে পানীয় জল পরিষেবা উন্নত করতে বরাদ্দ হয়েছে ১০০০ কোটি টাকা। আরও ৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে ৩৩টি পুরনো যৌথ পানীয় জল প্রকল্প সংস্কারে। চেন্নাইয়ের কিলপক জল শোধনাগারের ক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া হয়েছে ৪১০ কোটি টাকার প্রকল্প।
কৃষক ও শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বিজয়ের ঘোষণা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। জীবিকা, অধিকার ও ন্যায্য দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের জেরে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিরুভন্নামালাইয়ে SIPCOT শিল্পতালিকার বিরুদ্ধে কৃষকদের আন্দোলন এবং পারান্দুরে প্রস্তাবিত বিমানবন্দরের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। কয়েকটি ঘটনায় কৃষকদের বিরুদ্ধে গুণ্ডা আইনে মামলা হয়েছিল বলেও জানান বিজয়।
এর পাশাপাশি তিরুনেলভেলি ও সেলমে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ তৈরির প্রকল্প ঘোষণা হয়েছে। দুই প্রকল্পে মোট খরচ ৫৪৭ কোটি টাকা। পরিবহণ ব্যবস্থায়ও বদল আসছে। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্য জুড়ে নতুন গাড়ির ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট এবং একই দিনে পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ডিজিটাল ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হবে। QR কোড-যুক্ত ওই নথি প্রয়োজনে ডাউনলোড করে ফের ছাপানো যাবে।
এ দিন বিধানসভায় চেন্নাই পুরনিগমের দুই হাজারের বেশি সাফাইকর্মীর আন্দোলন নিয়েও আলোচনা হয়। স্থায়ী চাকরি, বেতন বৃদ্ধি, ESI-PF এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়মিত করার দাবিতে তাঁদের আন্দোলন চলছে। বিষয়টি নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।