দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত খবর পাক গোয়েন্দা সংস্থার হাতে কারা পৌঁছে দিচ্ছেন? এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে পাক হ্যান্ডলার বা গোয়েন্দাদের সঙ্গে কারা নিয়মিত যোগাযোগ রেখে যাচ্ছে? কী ধরনের তথ্য পাচার করা হয়েছে? কোন কোন সংবেদনশীল জায়গার তথ্য পাচার হয়েছে ? কীসের জন্য নিজের দেশের তথ্য অন্য দেশে দিনের পর দিন পাচার করা হয়েছে ? এই তালিকায় কতজনের নাম রয়েছে ? দেশের কোন মূল্যবান কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তাঁদের বেশিরভাগ?

দেশের নিরাপত্তাবাহিনী। যা অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রাখার মতো বিষয়। যা বলা যেতে পারে দেশের জন্য প্রধান ভীত। সেই ভীতই যদি নড়বড়ে হয়, দেশবাসীর ঘুম উড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা। পুলিশের অভিযোগ, পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখা হত এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গতিবিধি সম্পর্কিত গোপন তথ্য পাচার করা হত দিনের পর দিন। এইরকম একের পর এক ঘটনা প্রকাশ্যে আসতে থাকে। তারপরই অভিযানে নামে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল। অভিযানের নাম দেওয়া হয় অপারেশন ফায়ারওয়াল ২০২৬। ১২টি দলে ভাগ হয়ে দেশের ১০ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
কয়েকদিন আগেই বাঙালি এক নৌসেনাকর্মীকে পাকিস্তানে তথ্যপাচারের অভিযোগে তামিলনাড়ু থেকে গ্রেফতার করেছিল অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল বা সিআই। পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এক নৌসেনাকর্মী প্রদীপ মুখোপাধ্যায়কে কোয়েম্বত্তূর থেকে গ্রেফতার করা হয়। আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এ ছাড়াও গ্রেফতার হন নৌসেনা আধিকারিকদের গাড়ির চালক আন্নাম সাই ভারা প্রসাদ। অভিযোগ, দুজনেই মোটা টাকার বিনিময়ে পাকিস্তানে তথ্য পাচার করেন। শুধু ওই নৌসেনাকর্মীই নন, গোয়েন্দাদের সন্দেহের তালিকায় উঠে আসে আরও ১৮ জনের নাম। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনই নৌসেনাকর্মী। মূলত অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে চরবৃত্তির অভিযোগে নৌসেনাকর্মী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়। বিশাখাপত্তনম নৌসেনা ঘাঁটি-সহ দেশের অন্য অংশে সেনা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত খবর ফাঁস করা হয়েছে। নৌসেনা আধিকারিক, সন্ত্রাসদমন শাখা এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় ১৮ সন্দেহভাজনের ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়। তাঁদের কাছ থেকে বেশ কিছু নথি, ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস এবং মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়। কী ধরনের তথ্য পাচার করা হয়েছে, কোন কোন সংবেদনশীল জায়গার তথ্য পাচার হয়েছে।
কিন্তু তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রশ্ন। ঠিক কী কী গোপন তথ্য পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের হাতে পৌঁছেছে? দেশের কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পরিকাঠামো, নৌঘাঁটি বা বাহিনীর গতিবিধি ছিল তাঁদের নিশানায়? টাকার বিনিময়ে দিনের পর দিন দেশের নিরাপত্তা নিয়ে এই তথ্যপাচারের পিছনে কি আরও বড় কোনও চক্র কাজ করছে? ১৮ জনের সন্দেহের তালিকা কি এখানেই শেষ, নাকি তদন্তের জাল আরও দূর পর্যন্ত ছড়াবে? এখন সেই উত্তরই খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা।