ভোররাতে আচমকা বিকট শব্দ। ঘুম ভাঙতেই সামনে ভাঙা কাচ, রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে মদের বোতলের টুকরো। শুধু হামলা নয়, বাড়ির জানলা লক্ষ্য করে ছোড়া হয় বোতল, চলে অশ্রাব্য গালিগালাজ, হুমকি। আর গোটা ঘটনার ছবি ধরা পড়ে সিসি ক্যামেরায়। প্রশ্ন উঠছে, কেন টার্গেট করা হল আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িকে? হামলাকারীরা কারা? আর এর নেপথ্যে কি শুধুই ভয় দেখানোর চেষ্টা, নাকি রয়েছে অন্য কিছু?

সম্প্রতি রাজ্যে বেশ কয়েকজন আইনজীবীর উপর হামলার ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি বারুইপুর আদালতে আইনজীবী ও সিপিএম নেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্থা করা হয়। তাঁকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় ডিম। পুলিশের সামনেই আইনজীবী ও সিপিএম নেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে তেড়ে যান এবিভিপি-র সদস্যরা। তাঁর পরনে থাকা কালো কোট লক্ষ্য করে আচমকা ডিম ছোড়া হয়। আরও অভিযোগ, হামলার শিকার হন তাঁর সহকারীরাও। পরে পদ্মপুকুরে সিপিএমের পার্টি অফিসের সামনেও ফের সায়নকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থেকে ফেরার পথে বামপন্থী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত শামিম আহমেদ এবং তাঁর সহযোগী আইনজীবীরা আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। শামিমের দাবি, তাঁরা বেনাচাপাড়ায় ঘরছাড়া পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে পুলিশের সামনেই তাঁদের গাড়িতে হামলা হয়। বাঁশ, শাবল ও লাঠি নিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ। সঙ্গে থাকা এক মহিলা আইনজীবীর শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন শামিম। পরে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের হস্তক্ষেপে তাঁদের সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়।
এবার লক্ষ্য ছিল আইনজীবী ও সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়ি। বৃহস্পতিবার ভোররাতে তাঁর পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকার বাড়িতে হামলা চলে। মোটরবাইক আরোহী এক দুষ্কৃতী আইনজীবীর বাড়ির জানলা লক্ষ্য করে মদের বোতল ছোড়ে। গালিগালাজ, হুমকির পাশাপাশি, বাড়ির সিসি ক্যামেরাও ভেঙে দেয় অভিযুক্ত।
বিকাশ জানান, হামলার পর বাড়িতে পুলিশ যায়। কী ভাবে, কখন হামলা চালানো হয়, তা পুলিশকে জানান তিনি। এর বাইরে যা করণীয়, তা তিনি করবেন বলে জানান। ফেসবুকে এ নিয়ে পোস্ট করেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি লেখেন, গুন্ডারা এসেছিল মুখ ঢেকে, মোটর বাইকের নম্বর প্লেট ঢেকে। খুব পরিকল্পিত আক্রমণ। এরা যদি সন্ত্রাসী না হয় তবে কারা? তিনি আরও বলেন, তাঁকে ভয় দেখানো যাবে না। তিনি এবার আগ্নেয়াস্ত্রর লাইসেন্স নেবেন।
শুভঙ্কর সরকার লেখেন, এর আগেও বারুইপুর আদালতে বামপন্থী আইনজীবী সায়ন ব্যানার্জীর উপরে ডিম ছোঁড়া হয়েছিল। কলকাতার বুকে বিধায়ক কুণাল ঘোষের উপরে প্রাণঘাতী হামলা চলেছিল। আইনজীবী শামিম আহমেদের উপরে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারও তীব্র নিন্দা করেন তিনি। রাজ্যে এক অদ্ভুত নৈরাজ্যের শাসন চলছে। আইনজীবী, জনপ্রতিনিধি, কেউই সুরক্ষিত নন বলে জানান শুভঙ্কর সরকার।
একজনের পর একজন আইনজীবী আক্রান্ত। কখনও আদালত চত্বরে, কখনও রাস্তায়, এবার সরাসরি আইনজীবীর বাড়িতে। হামলার ধরন বদলালেও প্রশ্নটা একই। আইনজীবীদের নিরাপত্তা কোথায়? অভিযোগের পর অভিযোগ উঠছে, কিন্তু হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কতটা কঠোর পদক্ষেপ হচ্ছে? বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনায় কি এবার আরও বড় কোনও রাজনৈতিক বার্তা লুকিয়ে রয়েছে? নাকি আইনের রক্ষকরাই আজ হয়ে উঠছেন টার্গেট? উত্তর দেবে তদন্তই।