বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা:দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সুন্দরবন সংলগ্ন গোসাবা থানার অন্তর্গত গোসাবা গ্রাম পঞ্চায়েতের সোনারগাঁও এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। নদীর জলের তীব্র চাপ এবং প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিস্থিতির কারণে হঠাৎ করেই নদীবাঁধের একটি বড় অংশ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, যার ফলে গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেল ৫টা নাগাদ হঠাৎ বিকট শব্দে দুর্গা দেওয়ানী নদীর বাঁধের প্রায় দেড়শ ফুট অংশ ধসে সরাসরি নদীগর্ভে চলে যায়। ভরা কোটালের জেরে নদীর জলের মাত্রা ও স্রোত ইতিমধ্যেই বেশি ছিল, তার ওপর এই আকস্মিক ধসের ফলে নদী ও জনপদের মধ্যকার সুরক্ষাবলয়টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় সোনারগাঁও গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দেয়। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা ছিল, সামান্য জোয়ারের জল বাড়লেই বাঁধের এই ভাঙা অংশ দিয়ে হু হু করে নোনাজল ঢুকে গোটা গ্রাম প্লাবিত হতে পারে এবং নষ্ট হতে পারে হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমি ও মৎস্যখেত।
দুর্গা দেওয়ানী নদীতে বাঁধ ধসের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে নামে প্রশাসন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান সেচ দপ্তরের (Irrigation Department) আধিকারিক ও কর্মীবৃন্দ। নদীর জল যাতে কোনোভাবেই লোকালয়ে প্রবেশ করে জনজীবন বিপর্যস্ত করতে না পারে, তার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়। সেচ দপ্তর এবং স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের যৌথ উদ্যোগে এবং এলাকার সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহায়তায় ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাঁধ মেরামতের (বাঁধ-বেড় দেওয়ার) কাজ শুরু হয়েছে। জিও ব্যাগ এবং বাঁশ-বালির বস্তা ফেলে ভাঙন আটকানোর প্রাথমিক কাজ চলছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া ও সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। সুন্দরবনের নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলিতে নদীভাঙন একটি দীর্ঘস্থায়ী ও মারাত্মক সমস্যা হলেও, এই আকস্মিক দেড়শো ফুট ধসের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের দাবি ফের জোরালো হয়ে উঠেছে। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবং দ্রুত বাঁধটিকে মজবুত করতে প্রশাসনের উচ্চতর স্তরের তদারকিতে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।