ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, সাংবাদিক: স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রকাশিত ‘দাগি’ অযোগ্যদের তালিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালত। স্পষ্ট ভাষায় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, এসএসসি-কে আবার বিস্তারিতভাবে তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তবে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ফল প্রকাশের পরিকল্পনায় অনুমতি দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, “দাগি তালিকা অস্পষ্ট। বিষয়ভিত্তিক, সংরক্ষণভিত্তিক তথ্য সহ বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করতে হবে। কোনও গোপনীয়তা নয়।”
কমিশনের তরফে আইনজীবী কপিল সিব্বল ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “তালিকায় সকলের নামই রয়েছে।” তবে তাতে সন্তুষ্ট নয় আদালত। বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের পর্যবেক্ষণ, “যথাযথভাবে তথ্য না দিলে ফের আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।”
উল্লেখ্য, এসএসসি গত অগাস্টের শেষে ১৮০৬ জন দাগি অযোগ্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। যাঁরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের অ্যাডমিট কার্ড বাতিল করা হয়। আদালতের নির্দেশ ছিল, “একজন দাগিও যেন নিয়োগ পরীক্ষায় না বসেন।”

এরপর সেপ্টেম্বর মাসে নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নেয় কমিশন। এসএসসি জানিয়েছে, পুজোর পরে অর্থাৎ নভেম্বরের শুরুতেই ফল প্রকাশের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে, নভেম্বরে ইন্টারভিউ প্যানেল প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মডেল উত্তরপত্র প্রকাশ এবং তার চ্যালেঞ্জ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। প্রায় ৫০০ জন প্রার্থী উত্তর চ্যালেঞ্জ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে চূড়ান্ত উত্তরপত্র প্রকাশ করা হবে।
এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫.৬৫ লক্ষ প্রার্থী। নবম-দশমে ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯৬১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় বসেন ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ১৯২ জন (উপস্থিতি ৯১.৬২%)। একাদশ-দ্বাদশে পরীক্ষার্থী ছিলেন ২ লক্ষ ২৯ হাজার ৪৯৭ জন (উপস্থিতি ৯৩%)।
মামলার পরবর্তী শুনানি ২৪ নভেম্বর ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট।