মাম্পি রায়, সাংবাদিক: ত্রিপুরার আগরতলায় প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরায় পৌঁছে গিয়েছে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। অভিযোগ সেখানেও তৃণমূল কৎগ্রেসের সদস্যদের বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ, সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল, সুস্মিতা দেব, বীরবাহা হাঁসদা, সুদীপ রাহা, সায়নী ঘোষ। আইনশৃঙ্খলার অবনতির অজুহাত দেখিয়ে বিমানবন্দরে তাঁদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ত্রিপুরা বিমানবন্দর থেকে কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য ৪টি গাড়ি রাখার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা পৌঁছে জানতে পারেন, মাত্র ১টি গাড়ি রাখা হয়েছে। এদিকে পুলিশের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়, একই গাড়িতে সকলকে যেতে হবে। যা কার্যত অসম্ভব। কুণাল ঘোষ এগিয়ে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি। বিমানবন্দরের বাইরে প্রিপেড ট্যাক্সিও বুক করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি অটোও পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। প্রতিবাদে আগরতলা বিমানবন্দরে বসে অবস্থান বিক্ষোভ করেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “আমাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য ৪টে গাড়ি এসেছিল। গাড়িগুলোকে হুমকি দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের কাছে ১টি গাড়ি রয়েছে। সেই ১টি গাড়িতে দুটো করে ট্রিপ করলেও যাওয়া যায়। কিন্তু পুলিশ বলছে একবারেই যেতে হবে। আমরা ঠিক করেছি ব্যাগগুলো একটা গাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যাবো। এরা যখন বাংলায় যায় তখন তো অবাধে সকলে মিলে ঘুরে বেড়ায়। আমরা এখানে এলে গাড়ি,প্রিপেড ট্যাক্সি, বাইক তাড়িয়ে দেওয়া হয়। “

তারপর পায়ে হেঁটেই তৃণমূলের পার্টি অফিসে পৌঁছে যান তাঁরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করেন তাঁরা। তৃণমূলের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা স্লোগান তোলেন, “ভাঙচুর করে তৃণমূলকে রোখা যায়নি যাবে না।”

এইসব ইস্যু নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেস। গান্ধীবাদ ছেড়ে সুভাষবাদের পথে হাঁটার কথা বললেন শশী পাঁজা, অরূপ চক্রবর্তী। বিজেপিকে নিশানা করে তাঁদের আক্রমণ, ত্রিপুরার ঘটনা রাষ্ট্র পরিচালিত সন্ত্রাস। আগেরবারও তৃণমূল নেতৃত্বকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আমরা নজর রাখছি। এবারও কিছু হলে গান্ধীবাদ ছেড়ে সুভাষবাদ ধরতে হবে।

ত্রিপুরায় তৃণমূলের অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় সরাসরিভাবে যুক্ত বিজেপি। এমনই অভিযোগ তুলে শশী পাঁজা বলেন, “ত্রিপুরার অসহিষ্ণু সরকার সেখানে গণতন্ত্র ধ্বংস করছে। পুলিশের উপস্থিতিতে ভাঙচুর করা হয়েছে তৃণমূলের পার্টি অফিস। ফ্লপ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব এর কেন্দ্র। পুলিশ বসে সবটা দেখছে এই গণতন্ত্রের কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব উস্কানি দিয়েছে। এটা পুরোপুরি স্টেট স্পনসর্ড পলিটিক্যাল টেররিজম। আর পুলিশ দর্শক।”

এদিকে আগরতলা বিমানবন্দরে তৃণমূলের প্রতিনিধিদলের বাধাদানের ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ত্রিপুরায় আমাদের মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদদের আটকে দেওয়া হয়েছে। ট্যাক্সি, গাড়ি, বাইকেও যেতে দেওয়া হয়নি। সেজন্য ওদের পায়ে হেঁটে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এরপরও ওদের বাধা দিলে আমি নিজে যাবো। দেখি কার কত দম।“