বিশ্বজিৎ পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা: বিজেপি সাংসদ বিধায়কের উপর হামলার ঘটনায় ভিআইপি রোড বাগুইআটিতে নজিরবিহীন প্রতিবাদ করলেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশপুতুলকে লাথি, চড় মেরে, কুশপুতুল পুড়িয়ে প্রতিবাদে সামিল হন বিজেপি কর্মীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভিআইপি রোডের বাগুইআটি কেষ্টপুরের মাঝে কলেজ মোড় অবরোধ করেন বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা। সোমবার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের উপর আক্রমণের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রথমে পথ অবরোধ করা হয়। তারপর টায়ার ও মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুতুল জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। পরে সেই বিক্ষোভ আন্দোলন শালীনতা ছাড়িয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুতুল জ্বালিয়ে তার মুখে চড় লাথি মারতে দেখা যায় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বাগুইআটি থানার পুলিশ। পুলিশের আশ্বাসে প্রায় আধঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেয় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। বিজেপি কর্মী সমর্থকদের আন্দোলনের জেরে তীব্র যানজট তৈরি হয় ভিআইপি রোডের দু-দিকেই।


রবিবারই রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছিলেন, দলীয় জনপ্রতিনিধি এবং কর্মী সমর্থকদের উত্তরবঙ্গের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। সাধ্যমতো সহযোগিতা করতে হবে দুর্গতদের। ধস ও বন্যা বিধ্বস্ত নাগরাকাটা সহ উত্তরবঙ্গের বিস্তী্র্ণ এলাকায় ত্রাণ এবং অর্থসাহায্য পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশও দেন শমীক ভট্টাতার্য। সেইমতো সাহায্যের কাজে নেমে পড়েন বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা। নাগরাকাটার বামনডাঙা যাওয়ার মুখে বিক্ষোভের মুখে পড়েন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর, জুতো, লাঠি ছোড়া হয়। স্থানীয় কিছু গুন্ডাদের মারে নাকাল হতে হয় শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এবং মালদার সাংসদ খগেন মুর্মুকে। ইট পাথরের আঘাতে মাথা ফাটে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর। রক্তে ভিজে যায় তাঁর মুখ। পিছন থেকে বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকেও ধাক্কা মারা হয়। কিন্তু এই দুষ্কৃতীদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তারা কোন দলের সমর্থক তাও স্পষ্ট নয়। বিক্ষোভের মুখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন বিজেপি বিধায়ক-সাংসদরা। এই গুন্ডামির পিছনে তৃণমূলের হাত আছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।

তবে এসব চাপানোতরকে দূরে সরিয়ে জলপাইগুড়িতে আক্রান্ত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে শিলিগুড়ির হাসপাতালে মালদা উত্তরের সাংসদকে দেখার পর তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংসদের স্ত্রী এবং সন্তানের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার পর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “খগেন মুর্মু এমনি ঠিক আছেন। সিরিয়াস কিছু নয়। যাঁদের ডায়াবেটিস থাকে, তাঁদের একটু পর্যবেক্ষণে বেশি থাকতে হয়। ওঁর একটু কানে বেশি লেগেছে। রিপোর্টগুলো আমি দেখেছি। আপাতত পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’’