রিয়া হালদার, সাংবাদিক: যত দিন যাচ্ছে ততই ঘনাচ্ছে রহস্য। সিঙ্গাপুরে নর্থ ইস্ট ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে গিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর সাঁতার কাটার সময়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় গায়ক জুবিন গর্গের। বিদেশের মাটিতে অসমের ভূমিপুত্রের এহেন আকস্মিক প্রয়াণে অনেকেই ষড়যন্ত্রের আঁচ পেয়েছেন। তার ভিত্তিতেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নির্দেশে জুবিন গর্গের মৃত্যুতদন্তের জন্য সিট গঠন করে অসম সরকার। গায়ক অভিনেতা জুবিন গর্গের রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্ত চালাচ্ছে সিআইডির বিশেষ তদন্ত দল। তদন্তের অংশ হিসেবে রবিবার সিআইডি অফিসে তলব করা হয় অভিনেত্রী বৈশালী মেধি ও গায়িকা মেঘনা বরপুজারিকে। মেঘনা বরপুজারি জুবিনের সঙ্গে তিন বছর-সহ গায়িকা হিসেবে কাজ করেছেন। আপ্ত সহায়ক ও ফেস্টিভ্যাল ম্যানেজারের পর তদন্তকারীরা বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করল তাঁর ব্যান্ডের সঙ্গী শেখরজ্যোতি গোস্বামী এবং সহশিল্পী অমৃতপ্রভা মহন্তকে। এর ফলে এই মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা এপর্যন্ত দাঁড়াল চারে।
২৫ সেপ্টেম্বর প্রথম গ্রেপ্তার হন জুবিনের টিমের ড্রামার শেখরজ্যোতি গোস্বামী
১ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয় জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মাকে
নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালের আয়োজক শ্যামকানু মহন্তকে
শুক্রবার গ্রেপ্তার হন টিমের গায়িকা অমৃতপ্রভ মহন্ত
১৯ সেপ্টেম্বর নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালের পার্টিতে
জুবিনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এই দুই শিল্পীও
৫২ বছরের জুবিন সাঁতার কাটতে গিয়ে জলে ভেসে যান
শেখরজ্যোতি গোস্বামীকে তাঁর খুব কাছাকাছি সাঁতার কাটতে দেখা যায়
সেই ভিডিও ফুটেজে ইতিমধ্যেই ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়
মহন্ত পুরো ঘটনাটি নিজের মোবাইলে রেকর্ড করেন
গত ছয়দিন ধরে দু’জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করছিল পুলিশ
শ্যামকানুর মহন্তের বাড়িতে তল্লাশি করে সরকারি-বেসরকারি
বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার ২৮টি ভুয়ো সিলমোহর উদ্ধার হয়েছে
তদন্ত করতে গিয়ে মিলেছে একাধিক প্যান কার্ডও
নেডফির কর্তা থাকাকালীন ১৪ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে

জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা ও ফেস্টিভ্যালের ম্যানেজার শ্যামকানু মহন্তকে বিরুদ্ধে প্রথমে খুন, খুনের উদ্দেশ্যে না হলেও দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে মৃত্যুর কারণ হওয়া, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়। এই তদন্ত নিয়ে আশাবাদী গায়কের স্ত্রী গরিমা গর্গ। তাঁর কথায়, আইন তার নিজের পথেই চলবে। বিচার ব্যবস্থার উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। সবাই জানতে চান আসল সত্যিটা কী এবং কে কোন অপরাধে দোষী। দোষ প্রমাণ হলে খুব শিগগিরই শাস্তি পাবে দোষীরা। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে সিঙ্গাপুর থেকে প্রমাণ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তার আগে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম শেষ করতে হবে। তদন্তকারীরা এখন জুবিনের ভিসেরা রিপোর্টের অপক্ষোয় রয়েছে। ১০ অক্টোবর পাওয়া যাবে এই রিপোর্ট। জুবিনের মৃত্যুর ধোঁয়াশা যেন কাটতেই চাইছে না। তিনি সাঁতার কাটতে পারতেন। জলে ডুবে মৃত্য সম্ভব নয়। অনেকেই মনে করেছেন তাঁকে খুন করা হয়েছে।