ফুটবল মাঠে শুধু আবেগঘন ভাষণ দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। ড্রেসিংরুমে দাঁড়িয়ে ‘চাক দে ইন্ডিয়া’-র মতো অনুপ্রেরণামূলক সংলাপ আওড়ানোও তাঁর কোচিংয়ের মূল মন্ত্র নয়। বরং অনুশীলন, শৃঙ্খলা, কৌশল এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপরেই বেশি জোর দেন ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম সফল যুব দলের কোচ বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজ।

তাঁর কাজের ধরনেই রয়েছে আলাদা এক পরিচয়। খেলোয়াড়দের আবেগে ভাসিয়ে দেওয়ার চেয়ে বাস্তব ম্যাচের কঠিন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ ফুটবলারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করা, ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং চাপের মধ্যেও সাহসী ফুটবল খেলার মানসিকতা গড়ে তোলাই তাঁর কোচিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গোয়ার এই প্রাক্তন মিডফিল্ডার খেলোয়াড় হিসেবে চার্চিল ব্রাদার্স, ডেম্পো, ভাস্কো, স্পোর্টিং গোয়া এবং ইস্টবেঙ্গলের মতো ক্লাবে খেলেছেন। পরবর্তীতে কোচ হিসেবে ভারতীয় যুব ফুটবলে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেন তিনি। তাঁর কোচিংয়ে ভারত অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ে একাধিক SAFF খেতাব জিতেছে। ২০১৮ সালে তাঁর অধীনে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৬ দল AFC এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনালেও পৌঁছেছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ SAFF চ্যাম্পিয়নশিপ জয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি।
বিবিয়ানোর সাফল্যের গল্প তাই শুধু ট্রফির হিসাব নয়। তাঁর কোচিং দর্শনে রয়েছে খেলাটিকে সহজভাবে বোঝা, অনুশীলনে বাস্তব ম্যাচের পরিস্থিতি তৈরি করা এবং ফুটবলারদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া। ভুল হলেই শাস্তি নয়, বরং সেই ভুলের কারণ বুঝে উন্নতি করার সুযোগ এই মানসিকতা তরুণ খেলোয়াড়দের বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।
ফুটবলে বড় বড় কথা বলা সহজ, কিন্তু মাঠে সেই কথার প্রতিফলন ঘটানোই আসল পরীক্ষা। বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজের কাজের বিশেষত্ব সেখানেই তিনি খেলোয়াড়দের শুধু জয়ের স্বপ্ন দেখান না, সেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও মানসিকতা গড়ে তুলতেও গুরুত্ব দেন। ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াইয়ে তাঁর এই বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে আলাদা করে চেনায়।