অরুণাচল প্রদেশে ভারতীয় সেনার সঙ্গে চিনা বাহিনীর মুখোমুখি সংঘাতের খবর ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা। এই পরিস্থিতিতে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বার্তা দিল বেজিং। সোমবার চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানান, সীমান্ত এলাকায় নিজেদের নিয়মিত টহল ও পরিচালনামূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে দেশের ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব এবং সীমান্তের স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করছে চিন। একই সঙ্গে ভারতকে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের বক্তব্য, সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতাগুলি কার্যকর করতে ভারতও একই পথে হাঁটবে বলে আশা করছে বেজিং। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বাস্তব পদক্ষেপ করার কথাও বলেছেন গুও।
এর আগে গত শুক্রবার অরুণাচল প্রদেশে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর চিনা সেনার সঙ্গে ভারতীয় বাহিনীর সংঘাতের খবর নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। মন্ত্রকের বক্তব্য ছিল, চিনা বাহিনী নির্ধারিত টহলদারির ধরন থেকে সরে এলে সীমান্ত পরিস্থিতি মাঝেমধ্যে বিঘ্নিত হয়। তবে এই ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই দেশই বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থার সাহায্য নিচ্ছে। ভুল বোঝাবুঝি এবং পরিস্থিতির ভুল ব্যাখ্যা এড়ানোই মূল লক্ষ্য।
গত ২৫ অগস্ট বেজিংয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৫তম দফার বৈঠক হয়েছিল। সেখানে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির উপযোগী পরিবেশ তৈরির বিষয়ে সহমত হয়েছিল দুই দেশ। ২০০৫ সালের চুক্তি অনুযায়ী সীমান্ত সমস্যার ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।
এলএসিতে কোনও পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তা দ্রুত মেটাতে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ চালু রাখার সিদ্ধান্তও হয়েছে। তবে অরুণাচলে সাম্প্রতিক মুখোমুখি অবস্থানের নির্দিষ্ট তথ্যের বিষয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। ফলে সীমান্তে শান্তির বার্তা দিলেও, সংঘাতের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।