প্রেমের সম্পর্কে পরিবারের আপত্তি। তার জেরে এক যুবক ও তাঁর বাবার উপর অকথ্য নির্যাতনের অভিযোগ উঠল তরুণীর পরিবারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দু’জনকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য করা হয়। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বেহালার সরশুনা থানার অন্তর্গত বসুন্ধরা পার্ক এলাকায়। ইতিমধ্যেই ঘটনার ছবি ও ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘ দিন ধরেই ওই যুবক ও তরুণীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সেই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি তরুণীর পরিবার। অভিযোগ, রবিবার রাতে রাস্তার ধারে দু’জনে কথা বলছিলেন। সেই সময় তরুণীর পরিবারের সদস্যেরা যুবককে বাড়িতে নিয়ে যান। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা, মা এবং মামার নাম জড়িয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তরুণীর বাবার কয়েক জন পরিচিতও ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ।
এর পর যুবকের বাবাকেও সেখানে ডেকে পাঠানো হয়। অভিযোগ, বাড়ির ভিতরে যুবকের বাবাকে বন্দুক দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়। ছেলের সামনেই তাঁকে গুলি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি স্থানীয়দের। এমনকি, যুবককে গুলি করার জন্য তাঁর বাবার উপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ। তরুণীর মা তাঁর স্বামীর হাতে একটি ছুরি তুলে দিয়েছিলেন বলেও দাবি এলাকাবাসীর।
অভিযোগ, যুবক ও তাঁর বাবাকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা বিবস্ত্র অবস্থায় হাঁটতে বাধ্য হন যুবকের বাবা। ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সরশুনা থানার পুলিশ। কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এমন অমানবিক আচরণের অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সরশুনা ঘটনায় গ্রেফতার অভিযুক্ত বাবা প্রদীপ সরকার, মা রিঙ্কু বর্মণ এবং মামা রাহুল বর্মণ। ধৃতদেরকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে তাদের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশে হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত যুবতীর বাবা ও মামার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর যুবকের বাবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে পরিবারের দাবি।