পুর সভার ভোটে লড়াই করার কথা ঘোষণা করলেও কলকাতা পুর সভার নির্বাচনের ভোটার খসড়া তালিকা ও ভোট কেন্দ্রের তালিকা নিয়ে বৈঠকে যোগদান করলেন না গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস ও ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই দল।

এদিন আলিপুরের নব প্রশাসনিক ভবনে সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দেওয়া হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বৈঠকে হাজির হন কংগ্রেসের তরফ থেকে আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, বামেদের পক্ষ থেকে সুব্রত দত্ত ও রাজীব মজুমদার, মমতা তৃণমূলের পক্ষ থেকে বৈশ্যনোর চট্টোপাধ্যায় , রত্না সুর ও শক্তি প্রতাপ সিং, বিজেপির পক্ষ থেকে চিত্তরঞ্জন দে। প্রথম অর্ধে বৈঠকে বোরো ১ থেকে ৮ নম্বর বোরো ভোটার খসড়া তালিকা এবং ভোট কেন্দ্রের খসড়া তালিকা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। কলকাতা পুরসভার নির্বাচন ঘিরে সর্বদলীয় বৈঠকে জেলাশাসকের অনুপস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বৈঠকে ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা এবং ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় । তবে বিরোধীদের অভিযোগ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না জেলাশাসক অভিষেক তিওয়ারি। তাঁর পরিবর্তে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (নির্বাচন)। বিরোধীদের দাবি, তিনি নিজের বক্তব্য রাখার পর বিরোধীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান বৈঠক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৈঠকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। নির্বাচনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে জেলাশাসকের অনুপস্থিতি এবং বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
সব মিলিয়ে পৌরভোটের আগেই প্রথম বৈঠকে একাধিক বিষয় নিয়ে আপত্তি জানাল সমস্ত বিরোধী দলের নেতৃত্ব। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে আধিকারিক ভাবে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত না করেই ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছ। তার দাবি কোন রকম ক্লেইম এন্ড অবজেকশনের নিষ্পত্তি ছড়ায় তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছ বলে অভিযোগ জানালেন আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়। একই ভাবে মমতা তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিনিধি বৈশ্যনোর চট্টোপাধ্যায় ভোটার তালিকা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান। তার দাবি SIR পরবর্তী তালিকা নয়। ২০২৪ সালের ভোটার তালিকা নিয়ে পুর ভোট করা হোক বলে দাবি জানালেন তিনি। তার অভিযোগ তাদের প্রশ্ন উত্তর এড়িয়ে গিয়ে শাসক দল কে খুশি করার জন্য ভোটার খসড়া তালিকা এবং ভোট কেন্দ্রের খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে জানালেন তিনি। একই ভাবে বামেদের পক্ষ থেকে সিপিআইএম নেতা সুব্রত দত্ত অভিযোগ করেন যখন কলকাতা পুর সভার এলাকা থেকে ১ লক্ষ ১৭ হাজার ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে। সেখানে সেই তালিকা ধরে কি করে কলকাতা পুরসভার বৈঠক সম্ভব। তার ও দাবি নতুন ভোটার যাদের নাম বাদ গিয়ে ছিল তাদের নাম তুলেই ভোটার খসড়া তালিকা প্রকাশ করতে হবে বলে দাবি জানালেন সুব্রত দত্ত। তবে বিরোধী দের ভোটার খসড়া তালিকা নিয়ে আপত্তি খারিজ করে দিলেন বিজেপির প্রতিনিধি চিত্তরঞ্জন দে। তার দাবি এজেন্ডা উপরে নির্ভর করেই আজকে প্রথম অর্ধে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে মমতা তৃণমূলের বিরুদ্ধে অবান্তর কথা বলার অভিযোগ তুললেন বিজেপির প্রতিনিধি চিত্তরঞ্জন দে। তার পাল্টা অভিযোগ যে বিরোধী দের ভোটার তালিকা এবং ভোট কেন্দ্রের তালিকা নিয়ে যদি এত আপত্তি ছিল। তার পরেও সই করে তারা সেই খসড়া তালিকা গ্রহণ করলেন কেন বিরোধী দের উদ্দেশ্য পাল্টা প্রশ্ন তুলে দিলেন বিজেপির প্রতিনিধি চিত্তরঞ্জন দে। সব মিলিয়ে বিরোধীদের বৈঠকে নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ অন্য দিকে শাসক দল ও ভোটার খসড়া তালিকা নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে সুরে সুর মেলালেন একইভাবে।