লক্ষ্মীপুজোর দিন প্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পুজো মণ্ডপের কাছে পুরোনো ও ফাটল থাকা দেয়াল ধসে প্রাণ হারাল সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশুর।মৃতের নাম রনোজিৎ রায়। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রের খবর,প্রতিবেশী বাড়ির পুজো মণ্ডপ এলাকায় অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল ছোট্ট রনোজিৎ । সেই সময় সেখানে প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা মীনাক্ষী রায় জানান, আগে থেকেই মন্দিরের পাশের দেয়ালটিতে ফাটল ধরেছিল।

সুপ্রিয় বসাক, নিজস্ব সংবাদদাতা
শিশুরা খেলার সময় বা ধাক্কাধাক্কির কারণে আচমকা সেই পুরোনো দেয়াল ধসে পড়ে এবং শিশুটি তার নিচে চাপা পড়ে যায়।ঘটনার তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য এক এলালাবাসী জানান, প্রসাদ নিতে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই শিশুটি নিখোঁজ হয়ে যায়। চারিদিকে খোঁজাখুঁজি এবং কান্না-কাটির একপর্যায়ে ধসে পড়া দেয়ালের ফাঁক দিয়ে শিশুটির মাথা দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় মহকুমা হাসপাতাল পরে নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়, যেখানে শিশুটি চার দিন চিকিৎসাধীন ছিল। চিকিৎসকরা জানান যে, মাথার মারাত্মক আঘাতের কারণে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছিল চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হয়নি। মৃত রনোজিৎ রায়ের বাবা অজয় রায় কাজের সূত্রে কেরালায় কর্মরত একজন পরিযায়ী শ্রমিক, যিনি পুজোর আগেই বাড়ি ফিরেছিলেন। ঘটনার পর এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। শিশুটির ঠাকুরমা মীনাক্ষী রায় এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানান, এটি একটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা এবং এ বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পরিবার ও প্রতিবেশীরা বলেন, “বাচ্চাদের খেলার সময় এমন দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক, এর পেছনে কোনো মারামারি বা বিবাদ ছিল না”।