লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী রবিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, দেশের মানুষের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার চেষ্টা করছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। রাহুলের কথায়, এটি সবচেয়ে বড় অপরাধ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাবে INDIA জোট।

রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের বিশাল প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “আমার মনে হয়, জ্ঞানেশ কুমার রাতে ঠিকমতো ঘুমোতে পারছেন না। দেশের মানুষের কণ্ঠস্বর ও আত্মাকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করে তিনি সবচেয়ে বড় অপরাধ করেছেন।” রাহুল আরও বলেন, এই প্রতিবাদ কোনও একটি রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট কোনও নেতার আন্দোলন নয়। এটি গোটা দেশের মানুষের প্রতিবাদ। তাঁর কথায়, “এই আন্দোলন কোনও একটি দলের নয়, কোনও একজন নেতারও নয়। এটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। এটি ভারতের প্রতিবাদ, দেশের মানুষের কণ্ঠস্বর।”
বিরোধীদের লড়াই যে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, তা বোঝাতে গিয়ে রাহুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কিংবা জ্ঞানেশ কুমারকে তিনি নিজের শত্রু বলে মনে করেন না। তিনি বলেন, “আমরা ঘৃণার রাজনীতি করি না, আমরা ভালোবাসার বার্তা ছড়াই। আমরা অহিংসায় বিশ্বাসী। আমার কাছে কেউ শত্রু নয়। তবে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর আমার কাছে ধর্মের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটাই আমার ধর্ম।”
তিনি আরও বলেন, সংবিধানকে ধ্বংস করার কোনও চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। বিরোধীরা হিংসা বা ঘৃণার পথ বেছে নেবে না। বরং ভালোবাসা ও অহিংসার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিবাদ জানাবে। তবে সংবিধান রক্ষার লড়াই থেকে কোনওভাবেই পিছিয়ে আসবে না INDIA জোট।
‘শিবের বরযাত্রা’র উদাহরণ টেনে রাহুল বলেন, সেখানে সব ধরনের মানুষ ও জীবের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। কাউকে আলাদা করে রাখা হয় না। তিনি এমনই একটি ভারত গড়ার কথা বলেন, যেখানে প্রত্যেকের সমান অধিকার থাকবে। পাশাপাশি কৃষক ও পড়ুয়াদের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাহুলের বক্তব্য, একজন কৃষক কঠোর পরিশ্রম করলে তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাওয়া উচিত। অন্যদিকে, একজন পড়ুয়া ১৮ ঘণ্টা পড়াশোনা করার পর তাঁরও চাকরির সুযোগ পাওয়া দরকার। রাহুলের অভিযোগ, দেশ মাত্র দু-তিনজন মানুষের স্বার্থে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। দেশের পরিস্থিতি সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানান তিনি।