
বিশ্বজিৎ দেবনাথ, নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০০৯ সালে ভোটার হিসেবে প্রথম নাম ওঠে। তারপর থেকে ভোট দিয়ে আসছেন ১৪০০ ভোটার। এসআইআরের মধ্যেই হঠাৎ যেন বাজ পড়ল তাঁদের মাথায়। তৎকালীন নদিয়া জেলার জেলাশাসক ওঙ্কারনাথ মিনা ও তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার দেবাশীষ সেনের যৌথ উদ্যোগে, নদিয়া জেলার কল্যাণী বিধানসভার অন্তর্গত চড়যাত্রা সিদ্ধি গ্রামের প্রায় ১৪০০ ভোটারকে নদিয়া জেলার বাসিন্দা হিসাবে নদিয়া জেলার ভোটার হিসাবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। ২০০৯ সাল থেকেই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন অবধি বিধানসভা পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে সেই ১৪০০ ভোটার পর্যায়ক্রমে নদিয়া জেলাতেই ভোটদান করে এসেছেন। সংযোজন ও বিয়োজনের পর্যায়ক্রমে বর্তমানে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে এই চর যাত্রা সিদ্দিক গ্রামের ১৯৩ নম্বর বুথে ৫৭১ জন মহিলা ও ৫৮০ পুরুষ ভোটার মিলিয়ে মোট ১১৫১ জন ভোটার রয়েছে। এই ১১৫১ জন ভোটারের পরিবারের মাথায় এখন দুশ্চিন্তার পাহাড়। কারণ নতুন এসআইআর এর নির্দেশিকা অনুযায়ী ২০০২ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী নতুন ভোটার তালিকা সংশোধন করা হবে আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে ২০০৯ সালে নথিভুক্ত হওয়া এই ভোটারদের নতুন ভোটার তালিকায় নাম কি আদৌ থাকবে? আর যদি না থাকে তাহলে তাদেরকে বাতিল করলে তাদেরকে কি পুনরায় চলে যেতে হবে হুগলি জেলায় ভোটার তালিকার নাম তুলতে?

এই প্রশ্নের পাশাপাশি মাথা ছাড়া দিচ্ছে আরও কিছু প্রশ্ন। যার মধ্যে রয়েছে সমস্ত পরিবারগুলির যাবতীয় নথিপত্র থেকে শুরু করে স্কুল কলেজ এমনকি তাদের রুজি রোজগার জীবিকা নির্বাহ সমস্ত কিছুই কি তাহলে পরিবর্তন করতে হবে ? ২০০৯ সালে নদিয়া জেলার বাসিন্দা হিসাবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে প্রত্যেকটি পরিবারের স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে যাবতীয় নথিপত্র এমনকি বাজার দোকান চিকিৎসা পরিষেবা সমস্ত কিছুই নদিয়া জেলায় তারা পেয়ে আসছে। এখন কি তাহলে নদিয়া জেলা ছেড়ে যদি হুগলি জেলায় নাম নথিভুক্ত করতে হয় তাহলে সমস্ত কিছুই কি আবার নতুন করে হুগলি জেলায় তৈরি করতে হবে। এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর আপাতত অজানা। আর সেই কারণেই দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়েছে সকল গ্রামবাসীর।
২০০২ সালের তালিকায় নাম ছিল না। তবে ২০০৯ সাল থেকেই ২০২৪ সালের মধ্যে ভোটদান করে এসেছেন। এসআইআর আবহে আতঙ্ক চরমে উঠেছে। এবার কি তবে দেশছাড়া হতে হবে ? সেই প্রশ্নই তাড়া করে বেড়াচ্ছে ওই বাসিন্দাদের।