বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : গঙ্গাসাগর যাওয়ার জন্য নতুন সেতুর শিল্যান্যাস করে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, তাঁর সরকার মুখে বলে না, কাজে করে দেখায়। ১৭০০ কোটি টাকা খরচ করে চার লেনের সেতু তৈরি হওয়ার পরে গঙ্গাসাগরে যাওয়ার সমস্যা মিটবে। গঙ্গাসাগর মেলা পরিদর্শন করতে এসে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাসের পাশাপাশি একাধিাক পরিষেবার উদ্বোধন করেন গঙ্গাসাগর থেকে। গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। গঙ্গাসাগরে কপিলমুনির মন্দিরে পুজো দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও গঙ্গাসাগরে কেউ এক পয়সা ও দেয় না! অথচ এটি আন্তর্জাতিক স্তরের মেলা। সারা পৃথিবীর অনেক পুণ্যার্থী এই মেলায় আসেন।

“গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে ৭ থেকে ৮ টি প্রশাসনিক বৈঠক করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই মেলা পরিচালনা করা হয়। বাবুঘাট থেকে গঙ্গাসাগর মেলা পর্যন্ত সমস্ত কিছু নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। ২০২৬-এর গঙ্গাসাগর মেলায় ১ কোটি পুণ্যার্থীদের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী। এবিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটা শুভেচ্ছা বিনিময়। এটি ব্যক্তিগত বিষয়। আমিও অনেককেই শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাই। গঙ্গাসাগর আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গাসাগর মেলার জন্য কেউ এক পয়সা দেয় না। এটা আন্তর্জাতিক মেলা। “
এসআইআর নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটি অন্যায় হচ্ছে! ভারত রাষ্ট্র মহারাজের নাম বাদ পড়েছে? সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অনেক মহারাজ অনেক সাধুসন্তর নামও বাদ পড়েছে। বিজেপির ইশারায় যদি কেউ কাজ করে। মাস্টার যা বলছে কেউ সেটা পালন করছে। মানুষের সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে। এ বিষয়ে গঙ্গাসাগর কপিল মুনি মন্দিরের প্রধান পুরোহিত সঞ্জয় দাস জানান, প্রতিবছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী গঙ্গাসাগর মেলা পরিদর্শন করতে আসেন এ বছরও এসেছে। এ বছরের গঙ্গাসাগর দ্বীপ বাসীদের জন্য বাড়তি পাওনা গঙ্গাসাগর সেতু। এই সেতু হলে যেমন উপকৃত হবেন গঙ্গাসাগর এলাকার মানুষজন, তেমনই উপকৃত হবেন গঙ্গাসাগরে আগত অসংখ্য পুণ্যার্থীরাও ।