নিজস্ব সংবাদদাতা: দোড়গোড়ায় বিধানসভা নির্বাচন। স্ট্যাটেজি সাজাতে ব্যস্ত সমস্ত রাজনৈতিক দল। তারই মধ্যে লক্ষ্মীবারের সকালে ইডি হানা। মানে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আইপ্যাকের দফতরেও পৌঁছে যায় ইডি। সকালে প্রথমে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের আইপ্যাকে তল্লাশি চলচ্ছিল। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থার আরও একটি দল পৌঁছে যায় বেসরকারি ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। প্রতীক থাকেন ৭ লাউডন স্ট্রিটের আবাসনে। দিল্লিতে আর্থিক প্রতারণা মামলায় আইপ্যাকের যোগসূত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখতেই তল্লাশি অভিযানে নামে ইডি। দীর্ঘক্ষণ চলে জিজ্ঞাসাবাদ।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খবরের শিরোনামে একটাই খবর চলে আসে, তা হল, I-PACএর অফিসে ইডি হানা। নানা মামলার তদন্তে শহরে এক এর আগেও তাবড় তাবড় নেতার বাড়িতে ইডির হানার খবর উঠে এসেছে। এবারে বেসরকারি ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির হানা। তবে এই ঘটনার পর যা ঘটল, তা এর আগে রাজ্যে দেখা যায়নি। ইডি আধিকারিকরা যখন ভিতরে ঢোকেন, তার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা। মনোজ ভর্মা ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। তড়িঘড়ি বাড়ির ভিতরে ঢোকেন তিনি।
ঘড়ির কাঁটায় ঠিক বেলা ১২টা। প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার। তার কয়েক মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েই জানতে চান বাড়ির বাইরে রাস্তায় গাড়ি থেকে নেমে প্রশ্ন করেন, বাড়িটা কোথায়? তারপরে গাড়ি থেকে নেমে সোজা চলে যান লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে। আবাসনে ঢোকেন। লিফটে করে পৌঁছে যান সোজা ৭ তলায়। মিনিট পনেরো প্রতীক জৈনের বাড়িতে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। খালি হাতে ঢুকেছিলেন তিনি, কিন্তু যখন বেরোলেন হাতে দেখা যায় একটা সবুজ ফাইল। বাইরে এসে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি আধিকারিকরা। আইটি ইনচার্জের বাড়িতে সব হার্ডডিস্ক সংগ্রহ করতে এসেছিল। সমস্ত প্রার্থীর তালিকা, পার্টির প্ল্যান, স্ট্র্যাটেজি সংগ্রহ করতে এসেছিল। এটাই কি অমিত শাহের কাজ? যে আমার দলের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করতে এসেছে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যে দেশকে রক্ষা করতে পারে না। সে আবার আমার আইনি অফিসে ইডি পাঠাচ্ছে। “