নিজস্ব সংবাদদাতা : বিধানসভা নির্বাচনের ময়দান কাঁপাচ্ছে শাসক-বিরোধী দুই পক্ষই। এই পরিস্থিতিতে আইপ্যাকের অফিসে ইডির হানা ঘিরে উত্তপ্ত হল গোটা দিন। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ইডি তল্লাশি অভিযান শুরু করে। পরে তা জানতে পেরে প্রথমে আইপ্যাক কর্তার লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। পরে সল্টলেকের আইপ্যাকের অফিসে যান। সেখান থেকে একগুচ্ছ ফাইল এনে তুলে রাখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে। এরপরেই সেখান থেকে বেরিয়ে একযোগে ইডি এবং দিল্লির বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দিল্লির পুরানো একটি কয়লা মামলায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। খবর পেয়েই প্রতীক জৈনের বাড়িতে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “ তৃণমূলের গোপন তথ্য এবং প্রার্থী তালিকা চুরি করতেই ইডিকে দিয়ে এই অভিযান করাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আমার আইটি দফতরেও অভিযান চালিয়েছে। দলের সব গোপন নথি এবং প্রার্থী তালিকা চুরি করতে ইডিকে দিয়ে হামলা করেছেন নটি, ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার।”
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এই যে, মুখ্যমন্ত্রী যখন লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢুকেছিলেন, তখন তাঁর হাত খালি ছিল। পরে যখন তিনি সেখান থেকে বেরোন, তাঁর হাতে ছিল একটি সবুজ ফাইল। এই নিয়ে প্রশ্ন করায়, তৃণমূল সুপ্রিমোর বক্তব্য, “এই ফাইলগুলো আমার দলের। আমি নিয়ে যাচ্ছি।আমার দলের গোপন তথ্য জানার জন্য আইপ্যাকের অফিসে হানা দিয়েছে ওরা। এবার আমি যদি বিজেপি অফিসে হানা দিই ?”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, “ভোর ৬টা থেকে অপারেশন শুরু করেছে ইডি। অফিসে কেউ ছিল না। ল্যাপটপ, ফোনে যে সমস্ত ডেটা, ভোট কৌশল ছিল, এসআইআর নিয়ে মানুষকে সাহায্যের জন্য যেসব তথ্য রাখা ছিল, সেসবকিছু সকাল থেকে এসে হাতিয়ে নিয়েছে ইডি। আমি মনে করি এটা অপরাধ। আইপ্যাক অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের অথোরাইসড টিম। সব কাগজ লুঠ করে নেওয়া হয়েছে। আবার নতুন করে তৈরি করতে গেলে তো ভোট পেরিয়ে যাবে। আমরা রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দল, আমরা ইনকাম ট্যাক্স দিই। আমাদের অডিট হয়। ইডির প্রয়োজন হলে আইটির থেকেই কাগজ দেখতে চাইতে পারতো। বিজেপিকে তো নোটিস পাঠায় না !”
এরপর এসআইআর নিয়ে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ”১.৫ কোটির বেশি ভোটারের নাম কেটে দিয়েছে। অমর্ত্য সেনকে, জয় গোস্বামীকেও নোটিস দিয়েছে। শুনলে অবাক হবেন যে বেশিরভাগ মহিলার নাম এসআইআর তালিকা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আগে ৫৪ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে।”
এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী সাংবিধানিক কাজে হস্তক্ষেপ করে বাধাদান করেছেন। এর নিন্দা করছি। তিনি একজন মুখ্যমন্ত্রী, শুধু রাজনৈতিক নেত্রী নন, প্রশাসনিক কর্ত্রীও বটে। ইডির উচিত তার ক্ষমতা বলে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা। তারা আইনের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।”

শুভেন্দুর আরও বক্তব্য, “আইপ্যাকের কাছে তৃণমূলের ভোটার লিস্ট কেন থাকবে? আমি ইডির তদন্তের ব্যাপারে ঢুকবো না। তবে। সিপি ও মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়াকে অসাংবিধানিক ও অনৈতিক বলেই মনে করি। রাজীব কুমারের সময়ও তিনি একই কাজ করেছিলেন। ”
ইডির এই অভিযানের প্রতিবাদে রাস্তায় নামার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, “বিজেপির ডাকাতির বিরুদ্ধে, লুটের বিরুদ্ধে এই লড়াই। বিকেল ৪টেয় প্রতিবাদ মিছিল করা হবে।”
এই ইস্যুতে ইতিমধ্যে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দুপক্ষই। কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তে বাধাদানের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ইতি। তল্লাশি অভিযান চলাকালীন জোর করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নথি ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে ইডি৷ দিল্লি আধিকারিকদেরকেও জানানো হয়েছে বিষয়টি। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে মামলার শুনানি সম্ভাবনা৷