বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ৮ই জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের গঙ্গাসাগর মেলা। মকর সংক্রান্তির পুণ্য স্নানের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও, এখন থেকেই সাগরতটে পুণ্যার্থীদের ঢল নামতে শুরু করেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের এই ভিড়ে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল জেলা প্রশাসন। সমুদ্রে বা নদীতে স্নান করতে নেমে কেউ বিপদে পড়লে, তাঁকে উদ্ধার করতে এবার আসবে অত্যাধুনিক ‘রেসকিউ ড্রোন’। প্রতিবছরই মুড়িগঙ্গায় বা মেলার বিভিন্ন স্নানঘাটে অসাবধানতাবশত তলিয়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটে। সেই ঝুঁকি কমাতে প্রশাসনের তুরুপের তাস এই বিশেষ ড্রোন। ড্রোনের কার্যকারিতা নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি সফল মহড়া (Mock Drill) সম্পন্ন হয়েছে।

এই ড্রোনটি কেবল নজরদারি করবে না, বরং জলে বিপদগ্রস্ত কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করার সাথে সাথে দ্রুত গতিতে তাঁর কাছে পৌঁছেও যাবে। ড্রোনটি ডুবন্ত মানুষকে ভেসে থাকতে সাহায্য করবে এবং বিশেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ধার করে পাড়ে ফিরিয়ে দেবে। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে একটি অত্যাধুনিক ড্রোন মোতায়েন করা হলেও, ভিড় ও পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বিচার করে ভবিষ্যতে আরও ড্রোন নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উদ্ধারকাজে সময় অনেক কম লাগবে, যা প্রাণ বাঁচানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের ভিড়ে উদ্ধারকারী নৌকার পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, কিন্তু ড্রোন মুহূর্তের মধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে জীবনদায়ী সাহায্য পৌঁছে দিতে পারবে। ডিজিটাল নজরদারির এই ব্যবস্থা পুণ্যার্থীদের মনে বাড়তি ভরসা জোগাচ্ছে।

আগামী ১৪ই জানুয়ারি মকর সংক্রান্তির মূল স্নান। তার আগে মেলা চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার এবং সিভিল ডিফেন্সের পাশাপাশি এই ‘রেসকিউ ড্রোন’ সংযোজন নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। প্রশাসনের এই আধুনিক উদ্যোগে খুশি আগত পুণ্যার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও।