বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যস্নান সেরে যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরের পথে, তখন অন্ধকার কচুবেড়িয়া ঘাটে অসহায় অবস্থায় বসেছিলেন বিহারের পাটনা জেলার সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ অজয় যাদব। মকর সংক্রান্তির ভিড়ে দলছুট হয়ে পড়া এই বৃদ্ধের সম্বল ছিল কেবল একবুক আতঙ্ক। রাত ১২টার দিকে তাকে উদ্ধার করেন হ্যাম রেডিও ইনচার্জ দিবস মণ্ডল। কনকনে ঠান্ডায় তাঁকে নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে চলে খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা। শেষ পর্যন্ত ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয় বিহারে তার পরিবারের সঙ্গে। নাতি এসে দাদুকে ফিরে পেয়ে আবেগে আপ্লুত।

মেলা শেষ হলেও ‘হেল্প অলওয়েজ ম্যান গাইড’-এর মন্ত্রে এভাবেই কাজ করে চলেছে হ্যাম রেডিও। উত্তরপ্রদেশের শম্ভু দয়ালের মুখে হাসি অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের আজাদনগর থেকে আসা শম্ভু দয়াল হারিয়ে ফেলেছিলেন তাঁর স্ত্রীকে। ভিড়ের চাপে প্রিয়জনকে হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। খবর পেয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েন দিবস মণ্ডল ও নির্মলেন্দু মাহাতোরা। ডিজিটাল মোবাইল রেডিও টেকনোলজি ব্যবহার করে সুদূর উত্তরপ্রদেশে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আজ বড় ছেলে অমিতের হাতে বাবাকে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া আধার কার্ড, মোবাইল ও নগদ টাকাও ফিরিয়ে দেওয়া হয়। হ্যাম রেডিও আবারও প্রমাণ করল—পরিষেবা শুধু মেলার কয়েক দিন নয়, বরং মানুষের প্রয়োজনে তারা ২৪ ঘণ্টা সজাগ।
মেলা পরিসংখ্যানে হ্যাম রেডিওর সাফল্য
১০ তারিখ থেকে ১৬ তারিখ পর্যন্ত গঙ্গাসাগর মেলায় মোট ১৭৩০ জন হারিয়ে গিয়েছিলেন। হ্যাম রেডিওর তৎপরতায় এর মধ্যে ১৭২৭ জনকে তাদের পরিবার বা প্রিয়জনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ছিল ৪ জন শিশু এবং ৩ জন কিশোর-কিশোরী। দুর্ভাগ্যবশত, মেলাতে এসে মৃত্যু হয় ৩ জনের; তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দ্রুত যোগাযোগ করে যাবতীয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।