মাম্পি রায়, সাংবাদিক : “অধীর চৌধুরী আসলে বিজেপির ডামি প্রার্থী। ২০২৪ সালে তাঁকে এখান থেকে হারানোর জন্য, তাঁকে প্রাক্তন করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।“ মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার রোড শো থেকে বললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, “অধীর চৌধুরী বিজেপির এজেন্ট। সেজন্যই তো মঞ্চ থেকে কোনওভাবেই বিজেপিকে আক্রমণ করেন না তিনি। দুবেলা সাংবাদিক বৈঠক করে শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গালাগালি করেন। গরম লাগুক বা বৃষ্টি পড়ুক সবকিছুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেন।”

বেলডাঙার অশান্তি নিয়েও মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বহরমপুরের সভা থেকে তিনি বলেন, “এখানে আসার আগে বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাকে বলা হয়েছিল, এখানে সভা করার দরকার নেই। অশান্তি হতে পারে। আমি যা বুঝলাম, তাতে বুঝতে পারছি অশান্তিতে ইন্ধন দিচ্ছে বিজেপির বাবুরা। আর একজন গদ্দার তৈরি হয়েছে এই মাটিতে। সে-ও ইন্ধন দিচ্ছে। একটা গদ্দার, মীরজাফর, দামি প্রার্থীকে আপনারা বিদায় দিয়েছেন। বাকিদেরও একইরকম ব্যবস্থা করতে হবে। ধর্মে ধর্মে বিভাজন তৈরি করে, মানুষের হাতে মানুষেরই বিরুদ্ধে হাতিয়ার তুলে দিচ্ছে, বাংলার মাটিতে এদের কোনও জায়গা নেই। কোনও বুথে যদি কেউ বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির বীজ বপন করে তাহলে মুর্শিদাবাদ শোষিত হবে এবং বিজেপির উন্নতি হবে। গতকাল বেলডাঙায় যা হয়েছে, সেরকম কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপর আক্রমণ হয়েছে। তৃণমূল তা সমর্থন করে না। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নিলে আখেরে লাভ বিজেপির। যে বাবরি মসজিদ নিয়ে বড় বড় কথা বলছে, সে বিজেপিরই প্রার্থী ছিল। তাঁর আসল চেহারা, প্রকৃত স্বরূপ খুব তাড়াতাড়ি মানুষের সামনে আসবে।“- নাম না করে হুমায়ুন কবীরকে আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাংলাদেশি সন্দেহে ঝাড়খণ্ডে বাংলার শ্রমিককে খুনের অভিযোগ ওঠে। ঘর থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ওই শ্রমিকের দেহ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়েই বেলডাঙায় ওই মৃত শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের পরিবার ও পরিজনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অশান্তি চরম আকার নেয়।
এই ইস্যু নিয়ে অভিষেক বলেন, “আলাউদ্দিন শেখের ঘটনা শুনেই ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। দোষীদের দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থার আবেদন জানিয়েছি তাঁকে। উনি আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু আপনারা আইন হাতে তুলে নেবেন না, এমনটা করলে আখেরে বিজেপির গদ্দারগুলোরই লাভ।“

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন “এধরণের পরিস্থিতি তৈরি হলে শ্রমিকরা ভিনরাজ্য়ে গিয়ে সমস্যায় পড়লে হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। ৭৪৩০০০০০৩০/৯১৪৭৮৮৮৩৮৮ এই দুই হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে যে কোনও পরিস্থিতিতে সহায়তা চাইতে পারেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। প্রশাসন সবরকম আইনি সাহায্য দিয়ে তাদের ফিরিয়ে আনার বন্দোবস্ত করবে।“
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের স্ত্রীকে চাকরি দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।