বিশ্বজিৎ নস্কর, নিতস্ব সংবাদদাতা : ২০২৬ সালের বাংলার বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) আক্ষরিক অর্থেই এক হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের রূপ নিচ্ছে। আজ অর্থাৎ ২ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে দ্বিতীয় দফার নমিনেশন পর্ব শুরু হওয়ার সাথে সাথে রাজনীতির ময়দান বেশ উত্তপ্ত।

১. শাসক বনাম প্রধান বিরোধী শিবিরের লক্ষ্য
তৃণমূল কংগ্রেস (TMC): তৃণমূল তাদের জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। তারা ১৮৫ থেকে ২০০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তাদের প্রচারের মূল হাতিয়ার ‘উন্নয়ন’ এবং ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো সামাজিক প্রকল্পগুলি।
বিজেপি (BJP): অন্যদিকে বিজেপি এবার ‘একদম আর নয়’ স্লোগান নিয়ে সরকার গড়তে মরিয়া। তাদের দাবি তারা ১৬০ থেকে ১৭০ আসনের গণ্ডি পেরিয়ে যাবে। শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকে লড়াই করার সিদ্ধান্ত লড়াইয়ের পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
২. সেই নির্ণায়ক ২০% আসন
বিশেষজ্ঞরা যে ২০% আসনের (প্রায় ৬০টি আসন) কথা বলছেন, সেটিই আসলে এবারের ‘কিং মেকার’ হতে চলেছে। এর কারণগুলি হল:
প্রান্তিক লড়াই: অনেক আসনেই গতবার জয়ের ব্যবধান ছিল খুব সামান্য। এই আসনগুলোতে ভোটারদের সামান্য ওলট-পালট জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে দেবে।
বাম-কংগ্রেস ফ্যাক্টর: বাম ও কংগ্রেস জোট যদি কিছু ভোট কাটতে পারে, তবে সেটি তৃণমূল না বিজেপির ক্ষতি করবে—তার ওপর অনেক সমীকরণ নির্ভর করছে।
নতুন ভোটার ও ইস্যু: তরুণ ভোটারদের কর্মসংস্থান এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামাজিক ও আইনি ইস্যু এই আসনগুলোতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিনক্ষণ:
প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ (১৫২টি আসন)
দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ (১৪২টি আসন)
ভোট গণনা ও ফল ৪ মে, ২০২৬
লড়াইটা এখন আর শুধু সিটের সংখ্যার নয়, বরং অস্তিত্বের। বাংলার মানুষ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চায় নাকি পরিবর্তনের নতুন দিশা—সেটা ৪ মে পরিষ্কার হয়ে যাবে। আপনার কী মনে হয়, এই ২০% আসনে কোন ফ্যাক্টর সবচেয়ে বেশি কাজ করবে?