মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ছত্তিসগড়ের সক্তী জেলায় বয়লার বিস্ফোরণে ২০ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ১৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনার তিন দিনের মাথায় বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠীর চেয়ারম্যান অনিল অগরওয়াল, সংস্থার ম্যানেজার দেবেন্দ্র পটেল-সহ একাধিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

সক্তী জেলার পুলিশ সুপার প্রফুল্ল ঠাকুর জানান, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০৬ ধারা (অবহেলার কারণে মৃত্যু) এবং ২৮৯ ধারা (যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত অবহেলা)। তাঁর কথায়, “বেদান্ত গোষ্ঠীর আট থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আরও কারও নাম উঠে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গত মঙ্গলবার দুপুরে সক্তীর সিংহিতারাই গ্রামে অবস্থিত বেদান্ত লিমিটেডের (Vedanta Limited) তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। একটি বয়লার টিউব ফেটে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। সেই সময় বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। বিস্ফোরণের জেরে অনেকে গুরুতর দগ্ধ হন। ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়, পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজন প্রাণ হারান। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০।
ঘটনার পরেই রাজ্য সরকার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেয়। মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই প্রশাসনকে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বয়লার ফার্নেসের ভিতরে অতিরিক্ত জ্বালানি জমে গিয়ে চাপ তৈরি হয়েছিল। সেই চাপের জেরে বয়লারের নীচের একটি পাইপ সরে যায় এবং সেখান থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে।
তবে তদন্তকারীদের মতে, শুধুমাত্র যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিও এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। তাই ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কারিগরি তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। তারা বয়লারের নকশা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল খতিয়ে দেখছে।
এই ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের পরিবারগুলির মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।