মাম্পি রায়, সাংবাদিক : লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, “আমি ২০ বছরে যা করতে পারিনি, আমার বোন প্রিয়াঙ্কা তা করে দেখিয়েছে। ” এমন কী করলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ?

রাহুলের কথায়, “গতকাল আমি দেখলাম, আমার বোন পাঁচ মিনিটে এমন একটা কাজ করে ফেলেছে, যা আমি আমার ২০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে করতে পারিনি। কাজটা বল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হাসানো। এই বলে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাকে। এর পরেই খানিক হালকা সুরে যোগ করেন, “এটা আমাকেও শিখতে হবে। বড় দাদা হিসেবে আমি ভীষণ গর্বিত।”
আসলে, বৃহস্পতিবার নারী সংরক্ষণ আইন এবং সীমা নির্ধারণ কমিশন সংক্রান্ত বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। বক্তৃতার মাঝেই হঠাৎ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে খানিক রসিকতার সুরে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও হাসছেন। পুরো পরিকল্পনা করে রেখেছেন। চাণক্য যদি আজ বেঁচে থাকতেন, আপনার রাজনৈতিক কূটকৌশল দেখে তিনিও অবাক হতেন।” এরপরেই প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, “সব পরিকল্পনা উনিই করেছেন, আর এখন হাসছেন—মানে উনিও আমার কথায় সহমত।”
প্রিয়াঙ্কার এই মন্তব্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বরং হাসিমুখেই তা গ্রহণ করেন অমিত শাহ। সংসদ কক্ষেও সেই মুহূর্তে হাসির রোল ওঠে। সেই দৃশ্যের বিবরণ শুক্রবার নিজের বক্তব্যের শুরুতে তুলে ধরলেন রাহুল গান্ধী।
তবে শুধুই পারিবারিক খুনসুটি নয়, আলোচনার সূচনাতেই রাহুল গম্ভীর সুরে নারীশক্তির গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, “নারীরা আমাদের জাতীয় জীবনের কেন্দ্রীয় শক্তি। এই কক্ষে উপস্থিত প্রত্যেকেই জীবনে নারীদের থেকে শিক্ষা পেয়েছেন, প্রভাবিত হয়েছেন।”
সবমিলিয়ে রাজনৈতিক মতভেদ যতই থাক, সংসদের এই মুহূর্তে স্পষ্ট হয়ে উঠল অন্য এক ছবি—কখনও তীক্ষ্ণ কটাক্ষ, কখনও হালকা রসিকতা, আর তার মাঝেই মানবিক সম্পর্কের উষ্ণতা। নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্কের আবহে এমন মুহূর্তে হাসির রোল উঠল লোকসভায়।