
মাম্পি রায়, সাংবাদিক : হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ক্রমশই বাড়ছে। ভারতগামী জাহাজ-সহ একাধিক বাণিজ্যিক নৌযান আটক করার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে । সম্প্রতি ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, ইরানের পতাকা-বাহী দ্রুতগতির নৌকা ঘিরে ফেলছে বড় বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে। এরপর মুখোশ পরা, রাইফেলধারী সেনারা জাহাজে উঠে পড়ছেন।
ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে দুটি “নিয়মভঙ্গকারী” জাহাজকে শনাক্ত করে থামায়। এর মধ্যে ‘এপামিনোন্ডাস’ নামের একটি জাহাজ ভারতের উদ্দেশে যাচ্ছিল বলে খবর। অন্য জাহাজ ‘এমএসসি ফ্রান্সেস্কা’-কে “জায়নিস্ট শাসনের সম্পত্তি” বলে দাবি করেছে ইরান। ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম নুর নিউজ জানিয়েছে, এপামিনোন্ডাস ইরানের সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করায় তাতে গুলি চালানো হয়। পাশাপাশি ‘ইউফোরিয়া’ নামের আরও একটি জাহাজেও গুলি চালানো হয় বলে দাবি।
ইরানের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলি নেভিগেশন ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করছিল এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছিল। আইআরজিসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করাটা “রেড লাইন” হিসেবে বিবেচিত হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহণ হয়, ফলে এখানে যে কোনও অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে অস্থায়ী সংঘর্ষবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বার্তা দিয়ে বলেন, “চুক্তি করলে ইরান নিজেদের অবস্থান অনেক উন্নত করতে পারবে।” একই সঙ্গে তিনি ইরানকে “বাস্তববাদী” হওয়ার পরামর্শ দেন।
তবে ওয়াশিংটনের এই অবস্থানকে সন্দেহের চোখে দেখছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মার্কিন নীতিকে “ভণ্ডামিপূর্ণ” বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আলোচনা ও সমঝোতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে আমেরিকার চাপ ও হুমকি।
নতুন করে বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা এখনও অনিশ্চিত। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা যে দ্রুত কমছে না, তা স্পষ্ট।