মাম্পি রায়, সাংবাদিক : পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যে সম্পন্ন। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট। এই আবহে ক্রমেই তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক তরজা। শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি আক্রমণ শানালেন উত্তরপাড়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, “বাংলার মানুষের সঙ্গে ওদের শুধুমাত্র ভোটের সম্পর্ক। উৎসব বা সামাজিক পরিসরে তাদের কোনও উপস্থিতি নেই।”

সংবাদমাধ্যমের সামনে শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নির্বাচনের সময়েই কেবল বাংলায় আসেন অমিত শাহ। দুর্গাপুজো, পয়লা বৈশাখ কিংবা ইদের মতো গুরুত্বপূর্ণ উৎসবের সময় তাঁকে দেখা যায় না। তাঁর কথায়, যখন বাংলার মানুষ আনন্দে-উৎসবে মেতে ওঠেন, তখন তিনি কোথায় থাকেন? কেন সেই সময় মানুষের পাশে থাকেন না?”
এই প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “শুধু ভোটের সময় মানুষকে প্রয়োজন হলে তা জনসংযোগ নয়, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি।”
উত্তরপাড়ায় অমিত শাহর কর্মসূচিকে নিয়ে তাঁর কটাক্ষ, এই সফর সম্পূর্ণভাবে ভোটমুখী এবং মানুষের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই। পাশাপাশি তিনি তৃণমূলের উন্নয়নমূলক কাজের কথাও তুলে ধরেন। শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (MSME), স্বনির্ভর গোষ্ঠী—এই সব ক্ষেত্রেই রাজ্যে উন্নয়ন হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
অন্যদিকে, নির্বাচনের প্রথম দফায় রাজ্যে ব্যাপক ভোটগ্রহণের চিত্র সামনে এসেছে। মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবেই। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় ভোটদানের হার পৌঁছেছে ৯১.৯১ শতাংশে—যা সাম্প্রতিক অতীতে নজিরবিহীন। দক্ষিণ দিনাজপুরে সর্বাধিক ৯৪.৮৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। কোচবিহার, বীরভূম, জলপাইগুড়ি ও মুর্শিদাবাদ—প্রতিটি জেলাতেই ৯০ শতাংশের বেশি ভোটদানের হার দেখা গিয়েছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে মোট ভোটদানের হার ছিল ৮৫.২ শতাংশ, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। তাঁদের মতে, ভোটদানে এই বিপুল অংশগ্রহণ রাজ্যের ভোটারদের রাজনৈতিক সচেতনতারই প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, বাকি ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ নির্ধারিত রয়েছে আগামী ২৯ মে। তার আগেই প্রচারপর্বে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ যে আরও তীব্র হবে, তা স্পষ্ট। ফলাফল প্রকাশ হবে ৪ মে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।