স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : সুপ্রিম কোর্টের পর এবার হাইকোর্টে। আইনজীবীর পোশাক পড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গটগট করে প্রবেশ করলেন আদালতে। কিন্তু আদালত থেকে বেরিয়ে পড়তে হল বিক্ষোভের মুখ। শুনতে হল চোর চোর স্লোগানও। গলা উচিয়ে তাঁকে বলতে শোনা গেল ওরা আমাকে মেরেছে। প্রাক্তন হতেই বদলে গেছে প্রেক্ষপট। আগে শুনতেন জয় শ্রীরাম ধ্বনি যা শুনে মেজাজ হারাতেও দেখা গেছে তাঁকে। এবার শুধু জয় শ্রীরাম নয় তাঁর দিকে ভেসে আসছে কুকথার স্রোত। কিন্তু কেন হঠাৎ সাদা ইঞ্চি পাড়ের শাড়ির উপর পড়তে হল কালো কোর্ট। লড়াইয়ের জমি প্রস্তুত করতে আদালতই কি এবার প্রধান গন্তব্য। তবে কি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে এবার আইনজীবী হয়েই লড়তে দেখবে বাংলার মানুষ। নির্বাচনে হারের পর এই প্রথম ঘর থেকে প্রকাশ্যে এলেন তিনি। তাও আইনজীবীর পোশাকে। তবে কি তৃণমূল সুপ্রিমো আজ থেকেই লড়াইয়ের ময়দানে। কি এমন গুরুত্বপূর্ণ কেস যে তাঁকে আদালতে যেতে হল। নির্বাচনে হারের পর বলেছিলেন এত সহজে হার মানবেন না। তবে কি বিরোধিতার জমি শক্ত করতেই আইনজীবী হয়েই লড়াইয়ের ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঠিক নির্বাচনের আগে এসআইআর আবহে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল-জবাবে অংশ নিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনের ছাত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই প্রথম শীর্ষ আদালতে সওয়াল। এবার নির্বাচনে হারের পর প্রাক্তন হয়ে ফের আদালতে। কেন তড়িঘড়ি এভাবে আদালতে ছুটতে হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দলের নেতাকর্মীদের ভোট পরবর্তী হিংসা থেকে বাঁচাতে আদালতে যেতে হয়েছে তাঁকে। আদালতের বাইরে চোর চোর স্লোগান। আদালত কক্ষে তাঁর উদ্দেশ্যে ভেসে এল নাটক করবেন না। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চে জোরালো সওয়াল করলেন তৃণমূল নেত্রী। এজলাসে দাঁড়িয়ে মমতা বলেন,এটা বুলডোজার রাজ্য নয়। বাংলার মানুষকে বাঁচান। এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়। এদিন ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় তৃণমূলের তরফে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর পাশাপাশি সওয়াল করেন দলনেত্রী মমতা নিজে। তৃণমূল সুপ্রিমো আরও অভিযোগ করেন ৯২ বছরের বৃদ্ধ, ১৮ বছরের দম্পতিকেও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। তফশিলি জাতি, সংখ্যালঘুদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকী তাঁকেও বাড়ি থেকে বেরিয়ে থানা পর্যন্ত যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ভাবুন একবার একেই বোধহয় বলে পাওয়ার। যখন বর্তমান ছিলেন তাঁর দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ বারে বারে উঠেছে। আর ক্ষমতা যেতেই কর্মীদের বাঁচাতে আদালতে ছুটতে হচ্ছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। এখানেই শেষ নয় আদালতে দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর অভিযোগ ১২ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের হুমকি দেয়া হচ্ছে। মাছ-মাংসের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
এরপরেই সুর নরম করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সওয়াল, বাংলার মানুষকে বাঁচান। এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়। তৃণমূলের তরফে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক অভিযোগ তোলেন। পাল্টা পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, কোথায় কোথায় অশান্তি হয়েছে সেগুলি নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, অথচ ২০০০টি গন্ডগোলের কথা বলা হচ্ছে। পুলিশ কাজ করছে, কেউ অপরাধ করে থাকলে পুলিশ নিশ্চই ব্যবস্থা নেবে এবং নিচ্ছে।পুলিশের দাবি, যেখানে যা গন্ডগোল হচ্ছে তার সবটাই ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নয়। তদন্ত চলছে।
সওয়াল শেষে এজলাস থেকে বেরিয়ে আইনজীবীদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা। তৃণমূলনেত্রীকে লক্ষ্য করে ওঠে চোর স্লোগান । ভেসে এল কুকথাও। জয় শ্রীরাম ধ্বনিও তোলেন বিজেপিপন্থী আইনজীবীরা। কোনওক্রমে তৃণমূলপন্থী আইনজীবীরা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কোনওক্রমে এজলাস থেকে বের করে নিয়ে যান। বেরিয়ে যাওয়ার সময় আইনজীবীদের একাংশের দিকে হাত দেখিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি বলেন, ওরা আমাকে মেরেছে। ভবানীপুরে গণনার দিনও একই ভাবে এই অভিযোগ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকেই বলছেন আদালতে যাওয়া দিয়েই জোরালো বিরোধিতার রাস্তা পরিস্কার করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতদিন বিজেপি বিরোধী আসনে থেকে বারবার অভিযোগ করত বিধানসভা থেকে রাস্তায় তাঁদের কণ্ঠরোধ করত তৎকালীন শাসক দল। এবার একই অভিযোগে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।