ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রশাসনিক সমন্বয় বৈঠক থেকে একাধিক নতুন কর্মসূচি ও নীতিগত সিদ্ধান্তের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবারের প্রশাসনিক বৈঠকে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের উপর বিশেষ জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন, জনকল্যাণ শিবির, আয়ুষ দফতর পৃথকীকরণ থেকে শুরু করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালুর প্রস্তুতির কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক লড়াই থাকলেও বাকি সময়ে “কনস্ট্রাকটিভ আইডিয়া” নিয়ে কাজ করতে চায় সরকার। তাঁর দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্যের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সমন্বয়ের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চায় প্রশাসন।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগামী ৫ জুন রাজ্যের সমস্ত ব্লক, পুরসভা এবং পুরনিগম এলাকায় ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বন ও পরিবেশ দফতরের তরফে বিধায়কদের মাধ্যমে ফলের গাছ বিতরণ করা হবে। এলাকার মানুষকে সেই গাছ লাগানোর জন্য উৎসাহিত করা হবে।
এ ছাড়া ১৫, ১৬ এবং ১৭ জুন রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবির আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিডিও, পুরসভার সিইও এবং কর্পোরেশনের কমিশনারদের দায়িত্বে এই শিবির চলবে। সেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা হবে এবং সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনেও এ বার বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য। আয়ুষ ও ক্রীড়া দফতরের যৌথ উদ্যোগে জেলা জেলায় যোগ দিবস পালিত হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, খুব শীঘ্রই আয়ুষ দফতরকে স্বাস্থ্য দফতর থেকে আলাদা করে পৃথকভাবে গঠন করা হবে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা এসেছে সামাজিক প্রকল্প নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পকে ধাপে ধাপে আয়ুষ্মান ভারতে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালুর প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকেই নতুন ফর্ম প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অনলাইন ও অফলাইন— দু’ভাবেই আবেদন করা যাবে। আবেদন জমা পড়লেই ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু হবে বলেও দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।
তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী।
এ দিনের বৈঠকে আরও ঘোষণা করা হয়েছে, ‘দিদিকে বলো’ প্রকল্পের পরিবর্তে নতুন অভিযোগ জানানোর প্ল্যাটফর্ম চালু হবে। তার নাম রাখা হয়েছে— ‘আপনার সরকারকে বলুন’। নামটি প্রস্তাব করেছেন রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। আগামী সপ্তাহেই এই সংক্রান্ত নতুন টোল-ফ্রি নম্বর চালু হবে।