মাম্পি রায়, সাংবাদিক : কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের (Kakoli Ghosh Dastidar) উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সেই আবহেই বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিরোধী শিবিরের কয়েক জন সাংসদকে ‘বিশেষ বিশেষ’ বলে উল্লেখ করে শুভেন্দুর মন্তব্য, “যাঁরা অনেকদিন পর সত্যি কথা বলছেন, তাঁরাই বিশেষ বিশেষ সাংসদ। যারা বলছেন, আপনারা আমাদের স্বাধীনতা পাইয়ে দিচ্ছেন।” এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংবাদমাধ্যমে বারাসতের সাংসদ কাকলির বক্তব্য শুনেছেন তিনি। এরপরই তাঁকে প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানায় রাজ্য সরকার।

মঙ্গলবার কল্যাণীতে নদিয়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনা— এই তিন জেলার প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক, শাসকদলের সাংসদ-বিধায়কদের পাশাপাশি বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও। তৃণমূলের বারাসত সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ছাড়াও কয়েকজন বিরোধী বিধায়কও যোগ দেন বৈঠকে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু বলেন, “বিশেষ বিশেষ এমপিদের ডাকব। আজ বারাসতের এমপিকে আমরা বিশেষ ভাবে ডেকেছিলাম। উনি সহযোগিতা করেছেন।” কেন তাঁকে ‘বিশেষ’ বলা হচ্ছে, তার ব্যাখ্যাতেও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা অনেক দিন পরে সত্যি কথা বলছেন, যাঁরা বলছেন আপনারা আমাদের স্বাধীনতা পাইয়ে দিচ্ছেন, তাঁরাই বিশেষ বিশেষ সাংসদ।”
সূত্রের খবর, সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে কাকলির কিছু মন্তব্য নজরে আসে মুখ্যমন্ত্রীর। তার পরেই তাঁকে প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুভেন্দুর দাবি, বৈঠকে এসে কাকলি নাকি জানিয়েছেন, অতীতে এ ধরনের প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁরা বক্তব্য রাখার সুযোগ পেতেন না। এ দিন বলার সুযোগ পেয়ে তিনি খুশিও হয়েছেন বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। বৈঠক শেষে শুভেন্দুর সঙ্গে হাত মেলাতেও দেখা যায় তৃণমূল সাংসদকে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের সাংসদ ও বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানোর নীতি নিয়েছে নতুন সরকার। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আমলে বিরোধীদের ‘বয়কটের রাজনীতি’ করা হত বলেও এ দিন কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “আগে বিডিও, ওসি’রাও বিজেপির এমপিদের ফোন ধরতেন না। এই সিস্টেম ঠিক নয়।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বসিরহাটের কয়েক জন বিরোধী বিধায়কও এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজনকে বক্তব্য রাখার সুযোগও দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর বক্তব্য, “আমরা চাই কেন্দ্র-রাজ্য ডবল ইঞ্জিনের সুবিধা মানুষ পাক। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক লড়াই হোক, কিন্তু সারা বছর উন্নয়ন এবং সমন্বয়ের রাজনীতি হওয়া প্রয়োজন।”
কল্যাণীর বৈঠকে বিরোধী প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।