ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর আইনি বৈধতা বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার শীর্ষ আদালত জানায়, নির্বাচন কমিশনের এই ধরনের সংশোধনী প্রক্রিয়া চালানোর ক্ষমতা রয়েছে। তবে শুধুমাত্র SIR-এ নাম বাদ যাওয়ার ভিত্তিতে কাউকে অ-নাগরিক বলা যাবে না বলেও স্পষ্ট মন্তব্য করেছে আদালত।

বিহারে ২০২৫ সালে হওয়া SIR-কে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার রায়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ জানায়, সংবিধানের ৩২৪ নং অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকা সংশোধনের অধিকার রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। আদালতের মতে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই প্রক্রিয়া প্রয়োজনীয়।
তবে নাগরিকত্ব নির্ধারণের প্রশ্নে কমিশনের ক্ষমতার সীমাও বেঁধে দিয়েছে আদালত। বিচারপতিরা জানান, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখতে পারে। কিন্তু কাউকে চূড়ান্তভাবে নাগরিক বা অ-নাগরিক ঘোষণা করার অধিকার কমিশনের নেই।
আদালতের নির্দেশ, যাঁদের নাম নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কারণে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে, তাঁদের তথ্য চার সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে। পরে শুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় সরকার।
বিহারের SIR প্রক্রিয়ায় প্রথমে ১১ ধরনের নথি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। পরে আদালতের নির্দেশে আধার কার্ডও গ্রহণযোগ্য নথির তালিকায় যুক্ত হয়। এদিন আদালত জানায়, কোন নথি গ্রহণ করা হবে, তা নির্ধারণের অধিকার নির্বাচন কমিশনের রয়েছে।
এই মামলায় কংগ্রেস, আরজেডি, সিপিএম এবং তৃণমূল কংগ্রেস-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল কমিশনের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল। যদিও আদালত কমিশনের ক্ষমতাকে বৈধতা দিয়েছে, তবু নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।
আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলেই কেউ অনুপ্রবেশকারী বা অ-নাগরিক হয়ে যান না। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নির্বাচন কমিশনের নেই বলেই জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।”
আদালতের এই রায়ের ফলে বিহারের পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্যে হওয়া SIR প্রক্রিয়ার বৈধতাও বহাল থাকল।