মাম্পি রায়, সাংবাদিক : অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র নিয়ে রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ দূর করতে সরাসরি আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানিয়েছেন, প্রকল্পের ফর্ম পূরণের জন্য প্রত্যেক উপভোক্তার বাড়িতে সরকারের প্রতিনিধি পৌঁছে যাবেন। ফলে সাধারণ মানুষকে জটিল কাগজপত্র বা আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।

শনিবার সকালে বিধাননগরের একটি হাসপাতালে সার্ভিক্যাল ক্যানসার টীকাকরণ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই ঘোষণা করেন। সেখান থেকেই তিনি অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও সংশয়কে গুরুত্ব না দেওয়ার আবেদন জানান। তাঁর কথায়, ‘‘আগামী বুধবার অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম পর্যায়ের টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। ফর্ম পূরণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে লোক বাড়ি বাড়ি যাবে। তাঁরাই আবেদনপত্র পূরণে সাহায্য করবেন। কোনও গুজবে কান দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’’
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রকাশিত ‘সংকল্পপত্র’-এর অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল অন্নপূর্ণা যোজনা। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, যোগ্য মহিলাদের মাসিক ৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য সরকার প্রকল্পের আবেদনপত্র প্রকাশ করে। তবে ১২ পাতার দীর্ঘ ওই ফর্মে পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য, জমিজমার বিবরণ, বিভিন্ন নথিপত্রের কপি-সহ বিস্তৃত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর পরই আবেদন প্রক্রিয়াকে জটিল বলে অভিযোগ তোলা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।
অনেকের দাবি ছিল, পূর্বতন ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের তুলনায় অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপদ্ধতি অনেক বেশি কঠিন। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতেই তথ্য যাচাইয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা চাই প্রকৃত প্রাপকই এই টাকা পান। কোনও অবৈধ ব্যক্তি বা অযোগ্য আবেদনকারী যাতে সুবিধা না পান, তা নিশ্চিত করা হবে।’’
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় আবেদন করতে পারবেন। তবে আয়করদাতা, সরকারি কর্মচারী, নিয়মিত বেতনভোগী বা পেনশনপ্রাপকরা এই সুবিধা পাবেন না। ফর্মে জমি সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এর আগে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) আবেদনপত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এবার মুখ্যমন্ত্রী নিজেও আশ্বস্ত করলেন যে, সরকারের লক্ষ্য সাধারণ মানুষের কাছে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, আবেদন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলা নয়।
ফলে ন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির আবহে সরকারের এই আশ্বাস উপভোক্তাদের উদ্বেগ কমাতে পারে কিনা সেটাই এখন দেখার।