মাম্পি রায়, সাংবাদিকঃ নিজের দেশবাসীদের নিজেরাই হত্যা করছে, আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চ ব্যবহার করে ভারতকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রসংঘে মানবাধিকার পরিষদের বৈঠকে এমনভাবেই পাকিস্তানকে বিঁধলেন ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষীতিজ ত্যাগী। ২০১২ ব্যাচের ভারতীয় ফরেন সার্ভিস অফিসার ক্ষীতিজ ত্যাগী বলেন, পাকিস্তান নিজেদের দেশের বাসিন্দাদের বোমা মেরে হত্যা করছে, অথচ সেই একই মঞ্চকে ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে চলেছে। যারা নিজেদের দেশ চালাতে ব্যর্থ, অর্থনীতি বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছে, সেনার দাপটে রাজনীতি স্তব্ধ হয়ে আছে, মানবাধিকারের ইতিহাস কলঙ্কিত, তারা বরং ভারতের ভূমি দখলের স্বপ্ন দেখাটা এবার ছাড়ুক। একদিকে রাষ্ট্রসংঘ বারবার সন্ত্রাসবাদ রফতানি করছে, জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে, অন্যদিকে আবার নিজের দেশের মানুষজনকে বোমা মেরে হত্যা করছে।

পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম রিপোর্ট বলছে, সোমবার খাইবার পাখতুনখোয়ার তিরাহ ভ্যালির মাতরে দারা গ্রামে ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ভোর দুটো নাগাদ তিরাহ উপত্যকার মাত্রে দারা গ্রামে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদীদের নিশানা করে অন্তত এলএস-৬ বোমা ছোড়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, পাকিস্তানি তালিবানি যোদ্ধারা ওই এলাকায় বিস্ফোরক মজুত করেছিল। যা ওই হামলার মাধ্যমে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ অফিসার জাফর খান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দুজন তালিবানি জঙ্গি অমন গুল এবং মাসুদ খান ওই এলাকায় লুকিয়ে ছিল। ওই জায়গাকে কাজে লাগিয়ে বিস্ফোরক তৈরি করছিল তালিবানিরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যবহার করে হামলার ছক কষছিল ওই জঙ্গিরা। বেশ কিছু জেলার মসজিদে হামলার পরিকল্পনা ছিল তালিবানিদের। সেই কারণেই জায়গাটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় এবং তালিবানি জঙ্গিদের মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিহতদের মধ্যে মহিলা এবং শিশুরাও ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার পর, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা গ্রাম। দগ্ধ মানুষজন, দগ্ধ ঘরবাড়ি, গাড়ি, ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে দেহ। কী দুর্ভাগ্যজনক। পাকিস্তান নিজেরই বায়ুসেনাকে কাজে লাগিয়ে নিজেরই মানুষজনকে হত্যা করছে। এই নিয়েই রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় বিঁধলেন ভারতীয় কূটনীতিক।

পাকিস্তানের মাটিতে চালানো পাক সেনার হামলাকে উল্লেখ করার পর আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঐক্য এবং গঠনমূলক পদক্ষেপ করা উচিৎ, বিভাজন নয়। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়াতে যে হামলা চালানো হয়েছে, তাতে গভীর উদ্বেগপ্রকাশ করেছে মানবাধিকার কমিশন। ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়েছে মানবাধিকার কমিশনের তরফে। একথা উল্লেখ করে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট জানিয়ে কূটনীতিক ক্ষীতিজ ত্যাগী বলেন, কাউন্সিলের দৃষ্টিভঙ্গি সর্বজনীন, বস্তুনিষ্ঠ, পক্ষপাতহীন হতে হবে। সবমিলিয়ে একবার নয় বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে অপমানিত হয় পাকিস্তান। তবুও নিজের দুর্দশার কথা না ভেবে ভারতের দিকে আঙুল তোলে। পাকিস্তানের এই নির্লজ্জতা দেখতে দেখতে ক্লান্ত গোটা বিশ্ব। তবুও পাকিস্তান রয়েছে পাকিস্তানেই।