মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ভারতকে ‘নরক’-এর সঙ্গে তুলনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যে মন্তব্য করেছিলেন, তা নিয়ে বিতর্ক এখনও থামেনি। তবে এ বার নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও (Marco Rubio)। দিল্লিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্পের মন্তব্য প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কি নিজের ‘বস’-কেই পরোক্ষে ‘বোকা’ বলে ফেললেন রুবিও?

ঘটনার সূত্রপাত দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে। ট্রাম্পের ভারত সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রুবিও প্রথমে পাল্টা জানতে চান, “কোন মন্তব্য? কে করেছিলেন?” তখনই সাংবাদিক তাঁকে ট্রাম্পের ‘নরক’ মন্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। জবাবে রুবিও বলেন, “সমাজমাধ্যম এবং অন্যান্য জায়গায় অনেকেই অনেক মন্তব্য করেন। কারণ পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই বোকা লোক আছে। আমেরিকাও তার ব্যতিক্রম নয়। এখানেও বোকা লোকজন আছেন, যাঁরা সারাক্ষণ নির্বোধের মতো মন্তব্য করেন।”
রুবিওর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। কারণ, ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রসঙ্গ ওঠার পরেই তাঁর এই প্রতিক্রিয়া আসে। ফলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, ট্রাম্পের মন্তব্যগুলোকেই পরোক্ষে ‘নির্বোধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন বিদেশসচিব। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন দেখা যায়, মার্কিন বিদেশ দপ্তরের সরকারি সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা ওই মন্তব্য কিছু ক্ষণের মধ্যেই মুছে ফেলা হয়েছে।
যদিও রুবিও সরাসরি ট্রাম্পের নাম নেননি। পরে দেশে ফিরে এক মার্কিন সাংবাদিক একই প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করলে তিনি সাফাই দিয়ে বলেন, “আমি জানতাম না সাংবাদিকটি কার কথা বলছিলেন। আমার ধারণা ছিল, উনি সম্ভবত অনলাইনে বিভিন্ন বিষয় পোস্ট করা মানুষদের কথাই বলছিলেন।”
কিন্তু সেই ব্যাখ্যাতেও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। বরং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রুবিওর পরবর্তী মন্তব্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তিনি পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন। প্রশ্নের মুখে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “প্রেসিডেন্ট যদি না চাইতেন যে আমি এখানে থাকি, তা হলে আমি এখানে থাকতাম না।”
ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এ ভাবেই ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন রুবিও। তবে সমালোচকদের দাবি, তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়াতেই প্রকৃত অবস্থান স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ফলে ট্রাম্প-রুবিও সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে।