মাম্পি রায়, সাংবাদিক : রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মঞ্চে ফের মুখোমুখি ভারত ও পাকিস্তান। জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করায় ইসলামাবাদকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করল নয়াদিল্লি। পাকিস্তানকে ‘গণহত্যার কলঙ্কে কলঙ্কিত’ দেশ বলে কটাক্ষ করে ভারতের দাবি, নিজেদের রক্তাক্ত অতীত আড়াল করতেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার ভারত-বিরোধী প্রচার চালাচ্ছে তারা।

বুধবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ‘সশস্ত্র সংঘাতে নাগরিকদের নিরাপত্তা’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের বিতর্কসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনাতেই জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের প্রতিনিধি ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতেই কড়া জবাব দেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পর্বতনেনি (Harish Parvathaneni)।
বক্তৃতায় তিনি বলেন, “গণহত্যার কলঙ্কে কলঙ্কিত পাকিস্তান এমন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলছে, যা সম্পূর্ণ ভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।” তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মঞ্চকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান।
কাশ্মীর প্রসঙ্গের পাশাপাশি আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও সরব হয় ভারত। মার্চ মাসে রমজান চলাকালীন কাবুলের একটি হাসপাতালে হামলার প্রসঙ্গ তুলে হরিশ বলেন, “এই কাপুরুষোচিত হামলায় ২৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং আহত হন আরও ১২২ জন। এমন ঘটনাকে কোনও ভাবেই সামরিক অভিযান বলা যায় না।” তাঁর অভিযোগ, সাধারণ নাগরিকদের উপর হামলা চালিয়েও পাকিস্তান আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পাঠ পড়াতে চাইছে।
ভারতের বক্তব্যে স্পষ্ট, সন্ত্রাসবাদ এবং সীমান্তপারের হিংসার প্রশ্নে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আরও চাপ তৈরি করাই নয়াদিল্লির কূটনৈতিক কৌশল। নিরাপত্তা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ সেই বার্তাকেই আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
ভারতীয় প্রতিনিধির বক্তব্যের পর অবশ্য পাকিস্তানের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও পাল্টা প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু যে এখনও কাশ্মীর ইস্যুই, তা ফের স্পষ্ট হল রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার ইস্যুতে দুই দেশের সংঘাত আগামী দিনেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার সামনে আসতে পারে।