মাম্পি রায়, সাংবাদিক : দলের অন্দরের অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে। সপ্তাহের এখনও তিন দিনও পূর্ণ হয়নি, তার মধ্যেই দ্বিতীয় রাজ্যসভার সাংসদ দল ও সংসদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। সোমবার সুখেন্দুশেখর রায়ের পর বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সুষ্মিতা দেবও সমস্ত দলীয় পদ এবং সংসদের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণনের কাছে পাঠানো চিঠিতে সুষ্মিতা লিখেছেন, ‘‘আমি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে অবিলম্বে ইস্তফা দিচ্ছি। আমার পদত্যাগ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’’ একই সঙ্গে তিনি জানান, জনসেবার ক্ষেত্রে জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন।
অসমের প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা তথা প্রয়াত সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা সুষ্মিতা দীর্ঘদিন কংগ্রেস রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি সর্বভারতীয় মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রীও ছিলেন। ২০২১ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। পরে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠায় তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু পাঁচ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তাঁর এই প্রস্থান রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
এর আগে সোমবার তৃণমূলের প্রবীণ নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় দল এবং সংসদ— দুই পদ থেকেই ইস্তফা দেন। শুধু পদত্যাগই নয়, বিবৃতিতে তিনি তৃণমূল এবং গত ১৫ বছরের শাসনব্যবস্থারও তীব্র সমালোচনা করেন। পাশাপাশি সদ্য গঠিত নতুন রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচির প্রশংসা করে তিনি জানান, জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়েই তাঁর এই সিদ্ধান্ত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দুই সাংসদের পদত্যাগ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে ক্ষোভ এবং মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহেই বিধানসভায় নজিরবিহীন বিদ্রোহ দেখা যায়। দলীয় নেতৃত্বের মনোনীত প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে উপেক্ষা করে ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন করেন। পরে স্পিকারও তাঁকে স্বীকৃতি দেন।
এই ঘটনায় দলের সাংগঠনিক ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সুষ্মিতা দেব ও সুখেন্দুশেখর রায়ের পদত্যাগ সেই অস্থিরতারই নতুন বহিঃপ্রকাশ। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেবের পর তৃণমূলের কোন নেতা দলত্যাগী হতে চলেছেন, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।