New Delhi, Jun 08 (ANI): TMC General Secretary Abhishek Banerjee arrives for the INDIA bloc meeting at Constitution Club of India, in New Delhi on Monday. (ANI Photo/Naveen Sharma)
দলের অন্দরে বিদ্রোহের জেরে ক্রমশ চাপে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই আবহেই শুক্রবার দিল্লিতে পৌঁছলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। সূত্রের খবর, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক ও আইনি পদক্ষেপের দাবি জানাতেই তাঁদের এই সফর।

তৃণমূলের অন্দরে বর্তমানে দুই দিক থেকে বিদ্রোহের মুখে পড়েছে দল। এক দিকে, বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের ৫৮ জন বিধায়কের বিদ্রোহের জল্পনা। অন্য দিকে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন তৃণমূল সাংসদ নতুন রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-র সঙ্গে একীভূত হওয়ার ঘোষণা করেছেন বলে দাবি উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে দলের অবস্থান স্পষ্ট করতেই স্পিকারের দ্বারস্থ হচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
এ দিন দলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেন। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল একটাই দল। কেউ দল ছেড়ে গেলে তিনি আর তৃণমূলের সদস্য নন। সংবিধান মেনে এই ধরনের বিভাজনের কোনও বৈধতা নেই।” তিনি জানান, অভিষেক ইতিমধ্যেই স্পিকারকে চিঠি দিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
গত ১০ জুন ওম বিড়লাকে লেখা চিঠিতে অভিষেক দাবি করেন, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস একটি ‘অবিভাজ্য রাজনৈতিক দল’। লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দল মূল দলেরই সম্প্রসারিত রূপ। ফলে কোনও পৃথক গোষ্ঠী বা উপদলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
চিঠিতে স্পিকারের কাছে তিনটি আবেদনও জানান অভিষেক। প্রথমত, দলের বক্তব্য নথিভুক্ত করার অনুরোধ। দ্বিতীয়ত, তৃণমূলকে একক রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে শুধুমাত্র অনুমোদিত নেতা ও হুইপের মাধ্যমেই দলের প্রতিনিধিত্ব মেনে নেওয়ার আবেদন। তৃতীয়ত, কোনও তথাকথিত পৃথক গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং এ ধরনের কোনও আবেদন এলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তৃণমূলকে বক্তব্য পেশের সুযোগ দেওয়ার দাবি।
নিজের চিঠিতে অভিষেক ২০২৩ সালের ‘সুভাষ দেশাই বনাম মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল’-সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখও করেছেন। তাঁর যুক্তি, সংবিধানের দশম তফসিলে ৯১তম সংশোধনের পর ‘দল ভাঙন’ আর আইনি সুরক্ষা পায় না। বরং এ ধরনের পদক্ষেপ দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় বিচার্য হতে পারে।
অভিষেকের বক্তব্য, কোনও দলীয় সংযুক্তি বা একীভূতকরণ বৈধ হতে হলে শুধু সাংসদদের সমর্থন যথেষ্ট নয়। প্রথমে রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক সংযুক্তি হতে হবে, তার পর সংসদীয় দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যকে সেই সিদ্ধান্ত সমর্থন করতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে স্পিকার কী সিদ্ধান্ত নেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। তৃণমূলের দাবি, বিদ্রোহী শিবিরের পদক্ষেপ আইনের চোখে টিকবে না। অন্য দিকে, বিদ্রোহীদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও জল্পনা বাড়ছে।