নাজিয়া রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি : দক্ষিণ কোরিয়াতে আয়োজিত হয়েছিল ১৮তম বিশ্বশান্তি সম্মেলন। আর এই শান্তি সম্মেলনে বিশ্বের দরবারে বাংলার তথা ভারতের হয়ে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিলেন এক বঙ্গ কন্যা।
প্রতিবারের মতো এবারও দক্ষিণ কোরিয়ায় আয়োজন করা হয় বিশ্বশান্তি সম্মেলন। এবার ছিল ১৮তম বিশ্বশান্তি সম্মেলন। শিক্ষা ও শিল্পের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিলেন এক বঙ্গকন্যা। বিশ্বের দরবারে বাংলাকে আরও একবার গর্বিত করলেন বাংলার এক তনয়া। বাংলা যে সর্বক্ষেত্রেই শ্রেষ্ঠ তা আরও একবার প্রমানিত হল। দক্ষিণ কোরিয়ার সিওলের চেওংজু শহরে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক সংস্থা হেভেনলি কালচার, ওয়ার্ল্ড পিস অ্যান্ড রেস্টোরেশান অফ লাইট। অন্যদিকে এই অনুষ্ঠানের সহযোগী সংগঠন হিসেবে অংশ নেয় ইন্টারন্যাশনাল ওমেন পিস গ্রুপ এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউথ পিস গ্রুপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৭৭০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী, সাংসদ-স্পিকার, আধ্যাত্মিক নেতা, নারী ও যুব সংগঠনের সদস্যরা এই মহাসম্মেলনে অংশ নেন। এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ও আন্তর্জাতিক বিচারক হিসেবে কলকাতার চিত্রশিল্পী স্বাতী ঘোষ ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। যা বাংলার ইতিহাসে গর্বের বিষয়। তবে এবছর শুধু ভারত নয়, ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র থেকে আরও দুই বিচারককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
বিশ্বজুড়ে একাধিক বিষয়কে কেন্দ্র করে এক চরম অস্থিরতা কাজ করছে। দেশ-দেশের প্রতি, মানুষ- মানুষের প্রতি হিংস্র হয়ে উঠছে। সেখানে দক্ষিণ কোরিয়াতে এই শান্তি সম্মেলন বিশ্বজুড়ে শান্তির বার্তা বহন করবে বলে মত বিশেষজ্ঞ মহলের। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সম্প্রীতির বাঁধনে বেঁধে ফেলাই ব্রত শিল্পী স্বাতী ঘোষের জীবনে। সেই ব্রত বিশ্বজুড়ে প্রসারিত করার লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সিওলে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে শান্তির বার্তা দিলেন বঙ্গকন্যা স্বাতী ঘোষ। সিওলে অনুষ্ঠিত ১৮তম বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে বক্তব্য রেখে ভারতকে গর্বিত করলেন কলকাতার চিত্রশিল্পী। তাঁর বিশ্বাস, শিল্পই হতে পারে সংস্কৃতি ও সমাজকে যুক্ত করার এক মহৎ সেতুবন্ধন।স্বাতী ঘোষ জানিয়েছেন, “সারা বিশ্ব জুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক, ভারত সেই প্রয়াস চালিয়ে আসছে। আমার মূল লক্ষ্য হল শিল্প ও শিক্ষার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সেই শান্তির বার্তাই ছড়িয়ে দেওয়া।ভবিষ্যতে তিনি ভারতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক কর্মশালার আয়োজন করতে চান, যেখানে শিল্প ও শিক্ষা মিলিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির উদ্যোগকে আরও প্রসারিত করা সম্ভব হবে।”
দক্ষিণ কোরিয়ার এই বিশ্বসম্মেলনে আলোচনার বিষয় ছিল নারীর নেতৃত্ব, শান্তি শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বিশ্বশান্তির জন্য ডিক্লেয়ারেশন অফ পিস অ্যান্ড সিসেশন ওফ ওয়ার অর্থাৎ যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা কার্যকর করা। এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বঙ্গতনয়া স্বাতী ঘোষের শিল্পকর্ম ও শান্তির বার্তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। পাশাপাশি এই বঙ্গকন্যাকে আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তির দূত হিসেবে সম্মানিতও করা হয়েছে।