অযোধ্যার রামমন্দিরে দানবাক্সের অর্থ চুরির অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার উদ্বেগ প্রকাশ করল আরএসএস। সংগঠনের বক্তব্য, এই অভিযোগ শুধু একটি আর্থিক অনিয়মের বিষয় নয়, বরং কোটি কোটি রামভক্তের বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে বলেন, ‘‘রামমন্দিরের দানবাক্সে ভক্তদের নিবেদিত অর্থ চুরির অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ঘটনা সমগ্র হিন্দু সমাজ এবং ভগবান রামের অগণিত ভক্তের বিশ্বাসকে আঘাত করেছে। আমরা এই ঘটনায় গভীরভাবে ব্যথিত ও উদ্বিগ্ন।’’

আরএসএস জানিয়েছে, শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের অনুরোধে উত্তরপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। সেই তদন্তের সুপারিশের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সংগঠনের দাবি, তদন্তে যে-ই দোষী প্রমাণিত হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোনও ধরনের শৈথিল্য বা পক্ষপাতিত্ব বরদাস্ত করা উচিত নয়।
একইসঙ্গে রামমন্দির পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রতিও বার্তা দিয়েছে আরএসএস। সংগঠনের মতে, এই ঘটনাকে একটি ব্যতিক্রমী এবং অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত সমস্ত ত্রুটি দ্রুত চিহ্নিত করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অভিযোগ আর না ওঠে, সে জন্য নিরাপত্তা, হিসাবরক্ষণ এবং দান সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও নজরদারি নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে তারা।

হোসাবলের বক্তব্য, রামমন্দিরকে ঘিরে বর্তমানে যে বিভ্রান্তি এবং অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তার দ্রুত অবসান হওয়া জরুরি। কারণ, এই মন্দির কোটি কোটি মানুষের শ্রদ্ধা ও আস্থার কেন্দ্র। সেই বিশ্বাস অটুট রাখা সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব।
তবে বিবৃতিতে আরএসএস আরও দাবি করেছে, এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাকে হাতিয়ার করে ‘হিন্দুবিরোধী’ এবং ‘দেশবিরোধী’ শক্তি হিন্দুধর্মকে বদনাম করার চেষ্টা করছে। সংগঠনের বক্তব্য, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালিয়ে ধর্মীয় আবেগে আঘাত করার অপচেষ্টা চলছে। তাই একদিকে যেমন নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন, অন্যদিকে তেমনই গুজব বা বিভ্রান্তিকর প্রচার থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানিয়েছে আরএসএস। সংগঠনের মতে, দোষীদের কঠোর শাস্তি এবং প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমেই রামমন্দিরকে ঘিরে ভক্তদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।