মাম্পি রায়, সাংবাদিক: ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় বেছে বেছে হিন্দু পর্যটকদের হত্যা করেছিল জঙ্গিরা। তারপর থেকে পহেলগাঁও যেন আতঙ্কের সমার্থক হয়ে উঠেছিল। বিশ্বজুড়ে গর্জে ওঠেন সারা বিশ্বের মানুষজন। কিন্তু পাহাড়ঘেরা ভূস্বর্গের থেকে পর্যটকদের আর কতদিনই বা বঞ্চিত রাখা যায় ? সেই কথা মাথায় রেখেই দুর্গাপুজোর মরসুমে জম্মু ও কাশ্মীরের নতুন ১২টি পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হল।১২টি পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যে সাতটি কাশ্মীর উপত্যকার— আরু ভ্যালি, র্যাফটিং পয়েন্ট ইয়ান্নের, আক্কাদ পার্ক, পাদশাহি পার্ক এবং কামান পোস্ট। এ ছাড়া রয়েছে জম্মুর পাঁচটি পর্যটনস্থল- দাগন টপ, রামবন, কাঠুয়ার ধাগ্গার, রিয়াসি এবং সালালের শিব গুহা।

শুক্রবার ওই পর্যটনস্থলগুলি খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। শুক্রবার শ্রীনগরের রাজভবনে লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্য সচিব অটল দুল্লোর. শীর্ষ সেনা ও পুলিশ আধিকারিক এবং অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা। সুরক্ষাজনিত পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা করা হয় সেই বৈঠকে। আলোচনা পর্যালোচনার পর সোমবার থেকে ওই ১২টি পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে জম্মু-কাশ্মীরের ৫০টি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার জেরে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেরাজ্যের পর্যটনশিল্প। জঙ্গিহানার ঘটনার ৫মাস পেরিয়ে গিয়েছে। দুঃস্বপ্ন ভুলে একটু একটু করে ছন্দে ফিরেছে ভূস্বর্গ। তাই কাশ্মীরের পর্যটনকে আরও খানিকটা অক্সিজেন জোগাতে উৎসবের আবহে ১২টি পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কিন্তু এখন প্রশ্ন হল এই যে বৈসরণ উপত্যকায় ২৬জন হিন্দু পর্যটককে বেছে বেছে হত্যা করা হল, সেই বৈসরণ উপত্যকা কি খুলে দেওয়া হল? উত্তর হল না। এখনই খোলা হচ্ছে না কাশ্মীরের বৈসরণ উপত্যকা। নিরাপত্তা সংক্রান্ত আশঙ্কার জেরে আপাতত বন্ধই রাখা হচ্ছে এই পর্যটন কেন্দ্রটি।

২২ এপ্রিল যখন কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছিল, তখনই একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। যে কাশ্মীরে প্রায় সবসময়ই জঙ্গি অনুপ্রবেশ বা এনকাউন্টার হতেই থাকে, এমন একটা পর্যটকময় জায়গায় নিরাপত্তা নিয়ে এতটা উদাসীনতা কেন? আর যদি নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ থাকতো, তাহলে তো এমন নৃশংস ঘটনা ঘটতো না। আবার শোনা গিয়েছিল গুপ্তচর সংস্থার তথ্য অনুযায়ী খবর ছিল যে হামলা হতে পারে। তাহলে কেন পর্যটকভর্তি ওই জায়গায় আগে থেকে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হল না, প্রশ্ন একাধিক। কিন্তু ৫মাস কেটে গেলেও, পহেলগাঁওকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে অপারেশন সিঁদুর সংগঠিত হয়ে গেলেও, সেসব প্রশ্নের উত্তর আজও অধরা।