তসলিমা নাসরিনকে ২০০৭ সালে কলকাতা থেকে ‘জোর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়নি’, বরং মৌলবাদী শক্তির হুমকির কারণে তাঁর নিরাপত্তার স্বার্থেই রাজ্য ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এমনই দাবি করলেন সিপিএমের প্রবীণ নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, তসলিমার জীবন রক্ষার জন্য তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা এবং নিরাপদে দেশ ছাড়ার ব্যবস্থা করেছিল।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বিকাশবাবু বলেন, ‘‘তসলিমাকে জোর করে তাড়ানো হয়নি। তিনি বিদেশি নাগরিক ছিলেন। তাঁকে জোর করে দেশ থেকে বার করে দেওয়ার কোনও ক্ষমতা রাজ্য সরকারের ছিল না। তাঁর নিরাপত্তার জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’’
তাঁর আরও দাবি, সেই সময় মৌলবাদী শক্তির কাছ থেকে তসলিমার প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। আরএসএস এবং তৃণমূলের সমর্থনপুষ্ট মৌলবাদী শক্তির হুমকির অভিযোগ তুলে বিকাশ বলেন, লেখিকার জীবন রক্ষায় তাঁকে নিরাপদে দেশের বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল তৎকালীন সরকার।
তসলিমাকে নিয়ে বিজেপি সরকারের ভূমিকা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। বিকাশের বক্তব্য, তসলিমা স্বাগত, তবে তিনি যদি হিন্দু মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে কিছু না বলেন, তা হলে বিজেপি সরকার তাঁর ‘পৃষ্ঠপোষকতা’ করবে।

প্রায় দুই দশক পর সম্প্রতি কলকাতায় সফর করলেন তসলিমা। ২০০৭ সালে তাঁর লেখা ও আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’ ঘিরে তীব্র প্রতিবাদের পর শহর ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। এ বার কলকাতায় ফিরে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লেখিকা বলেন, কোনও লেখককে নিরাপত্তা দেওয়া মানেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করা।
তসলিমা পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, সরকার তাঁকে যথেষ্ট নিরাপত্তা দিয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী নিজে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন। সেই অভ্যর্থনার জন্য বহু বছর অপেক্ষা করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
তবে কলকাতায় তাঁর প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই বলে স্পষ্ট করেছেন তসলিমা। তাঁর দাবি, কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করতে নয়, মূলত নারীর স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলতেই তিনি ফিরেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন লেখিকা। ১৯৭৮ সাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রকাশনায় লিখছেন তিনি। আশির দশক থেকে নিয়মিত কলকাতায় আসা-যাওয়া ছিল তাঁর। দীর্ঘ নির্বাসনের পরে সেই কলকাতাতেই তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।