রাজনীতি থেকে বিচারব্যবস্থা, সংবাদমাধ্যম থেকে নির্বাচন কমিশন— দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলির উপর চাপ তৈরি করতেই আপাতত ‘প্রেশার গ্রুপ’ হিসাবে কাজ করবে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বুধবার দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানান, প্রতিষ্ঠানগুলির জবাবদিহি এবং নিরপেক্ষতা ফেরানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে সিজেপি একটি প্রেশার গ্রুপ হিসাবেই কাজ করবে। কারণ, এখন ভারতের প্রয়োজন একটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী।’’
তাঁর দাবি, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, সংবাদমাধ্যম কিংবা নির্বাচন কমিশন— কোনও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেই সাধারণ মানুষের আস্থা আগের জায়গায় নেই। শিক্ষা-সংক্রান্ত আন্দোলন হিসাবে শুরু হলেও তাঁদের আন্দোলনের প্রতি যে সমর্থন তৈরি হয়েছে, তা অনেক বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়েছে বলেই দাবি করেন তিনি।
অভিজিতের বক্তব্য, ‘‘এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে জবাবদিহি এবং নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনতে জনআন্দোলন এবং জনচাপ প্রয়োজন। আমার মতে, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এখন খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।’’
এ দিকে, ঝাড়খণ্ডে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশেও থাকার বার্তা দিয়েছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। জেপিএসসি, জেএসএসসি সিজিএল-সহ বিভিন্ন পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন চলছে, তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে সিজেপির প্রতিনিধিরা ঝাড়খণ্ডে যাবেন।
অভিজিতের কথায়, ‘‘আমরা অবশ্যই ঝাড়খণ্ড যাব। সেখানে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে আছি এবং তাঁদের প্রতিটি দাবিকে সমর্থন করি।’’ সিজেপির সদস্যরা ইতিমধ্যেই ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠন ও আন্দোলনকে কী ভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন অভিজিৎ। দলের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি, সাংগঠনিক বিস্তার এবং আগামী দিনের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে সিজেপির দু’দিনের কোর সদস্যদের বৈঠক।
৫ অগস্ট ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে শুরু হচ্ছে ওই বৈঠক। পর দিন, ৬ অগস্ট দুপুর ২টোর সময় সাংবাদিক বৈঠক করে দু’দিনের আলোচনায় নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং দলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। ফলে সিজেপি আগামী দিনে কোন পথে হাঁটে, সে দিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।