প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিডিয়ো কয়েক ঘণ্টার জন্য ফেসবুক থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় এ বার সরাসরি মেটা-র সিইও মার্ক জুকারবার্গের কাছে ক্ষমা চাইল সংসদীয় কমিটি। ভিডিয়ো সরানোর ঘটনায় ‘গুরুতর’ আপত্তি জানিয়ে তিন দিনের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি অন কমিউনিকেশনস অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি ৩ অগস্ট বৈঠকে বসেছিল। ‘সামাজিক ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং তার নিয়ন্ত্রণ’ নিয়ে ওই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক এবং স্ন্যাপচ্যাট, গুগল, এক্স, মেটা, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকের পরেই তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব এস কৃষ্ণনকে চিঠি পাঠায় কমিটি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২৩ জুলাই পড়ুয়া এবং ‘জেন জ়ি’-র উদ্দেশে পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ক এবং প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে মোদীর বক্তব্যের ভিডিয়ো ফেসবুক থেকে পাঁচ থেকে ছ’ঘণ্টা সরিয়ে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে কমিটি। এই ঘটনায় মেটার প্রধান জুকারবার্গের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
কমিটির বক্তব্য, চিঠি পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে যদি জুকারবার্গ ‘নিঃশর্ত ক্ষমা’ না চান, তা হলে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
শুধু মোদীর ভিডিয়ো নয়, বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত ভিডিয়ো বা ছবি এবং মহিলাদের হেয় করে তৈরি করা বিষয়বস্তু নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিটি। এই ধরনের ‘চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ় ম্যাটেরিয়াল’ (সিএএসএম) প্ল্যাটফর্ম থেকে সরাতে ব্যর্থ হলে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯(৩) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে তারা।
এ ছাড়াও সাইবার প্রতারণা সংক্রান্ত একটি ঘটনায় গুগল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপের পক্ষেও সওয়াল করেছে কমিটি। হায়দরাবাদ সাইবার পুলিশের তদন্তে একাধিক প্রতারণামূলক অ্যাপের মাধ্যমে ৪৮ লক্ষ টাকারও বেশি খোয়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় গুগল ইন্ডিয়ার প্রধানকে প্রতারকদের সঙ্গে সহ-অভিযুক্ত করা হয়েছিল বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।
সংসদীয় কমিটির বক্তব্য, অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তবে গুগল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রের বিবেচনা করা উচিত।
মোদীর ভিডিয়ো সরানো নিয়ে কমিটির এই কড়া অবস্থানের ফলে সামাজিক মাধ্যম সংস্থাগুলির দায়বদ্ধতা, কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।