শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা : বাংলায় বিজেপি সরকার আসতেই বেআইনি গুরু পাচারের বিরুদ্ধে তৎপরতা। আর সেই আবহেই হিঙ্গলগঞ্জে একেবারে অ্যাকশন মুডে দেখা গেল বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্রকে। শাড়ির আঁচল সামলে নিজেই রাস্তায় নেমে আটক করলেন গরুবোঝাই গাড়ি। শুক্রবার দুলদুলি ফেরিঘাট এলাকায় অবৈধভাবে গরু পাচারের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান তিনি। গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কড়া বার্তা দিলেন হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্র। তারপর নিজের হাতে গাড়ি আটকে গরুগুলিকে নামিয়ে এনে রাস্তার ধারে গাছের ছায়ায় বেঁধে রাখেন। শুধু তাই নয় উদ্ধার হওয়া গরুগুলির জন্য বিচুলি ও জল খাওয়ার ব্যবস্থাও করেন বিধায়ক। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

রেখা পাত্রের দাবি, বেআইনি গরু ব্যবসার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, ১৪ বছরের নিচের গরু কেনাবেচা করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। অথচ যেগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সেগুলি ছোট। অর্থাৎ সরকারি নির্দেশই মানা হচ্ছে না। তাই গরুগুলিকে আটকানো হয়েছে ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ। গরুবোঝাই ট্রাকটির নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথায় পাচার হচ্ছিল তা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে সন্দেশখালিকে হাতিয়ার করেই বাংলায় রাজনৈতিক জমি শক্ত করার চেষ্টা করেছিল বিজেপি। সেই সময় প্রতিবাদী মুখ হিসেবে উঠে এসেছিলেন রেখা পাত্র। তাঁকে সামনে রেখেই বসিরহাটে রাজনৈতিক সমীকরণ সাজাতে চেয়েছিল গেরুয়া শিবির। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই অঙ্ক সফল হয়নি। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্র বদলে হিঙ্গলগঞ্জে প্রার্থী করা হয় রেখাকে এবং সেখান থেকেই জয়ী হয়ে বিধায়ক হন তিনি। আর এবার সেই বিধায়ককেই দেখা গেল একেবারে মাঠে নেমে অ্যাকশন মুডে।
কয়েকদিন আগেই পশুবলি ও ধর্মীয় কারণে পশুহত্যা নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। গরু, মোষ বা বাছুর বলির ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেআইনি গরু হাট ও পাচার রুখতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশো দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। সেই আবহেই হিঙ্গলগঞ্জের এই ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা দিল বলেই মনে করছে অনেকেই। রাজনীতির মঞ্চে রেখা পাত্রকে ঘিরে বিতর্ক, সমালোচনা কিংবা সমর্থনের অভাব নেই। কিন্তু শুক্রবারের ছবিতে তিন যেন শুধুই এক জনপ্রতিনিধি নন বরং মাঠে নেমে কাজ করা বিধায়ক হিসেবেই ধরা দিলেন। আর সেই কারণেই হয়তো মেঠো পথের ধুলো মেখে প্রতিবাদী চরিত্র হয়ে ওঠা রেখা পাত্র বুঝিয়ে দিলেন বিধায়ক হিসাবে ঠান্ডা ঘরে নয় মাঠে ময়দানে চষে বেড়াবেন তিনি।