অনুসূয়া দাস, সাংবাদিক : চন্দ্রনাথ রথকাণ্ডে তদন্ত এগোচ্ছে, একের পর এক গ্রেফতারি। বালিয়া থেকে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল সিবিআই। তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেই চালানো হয়েছিল অপারেশন। বড় কোনও চক্র রয়েছে কি না, তা নিয়েই এখন জোরদার তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আত্মসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ মামলায় উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে নবীন কুমার সিং নামে আর এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থা আদালতে দাবি করেছে, রাজ্য পুলিশের সিট রাজ সিং নামে যাকে গ্রেপ্তার করেছিল, তিনি এই মামলার প্রকৃত অভিযুক্ত নন। তদন্তকারীদের দাবি, নামের মিলের কারণেই ভুলবশত ওই ব্যক্তিকে ধরা হয়েছিল। পরে মুজফ্ফরনগর থেকে আসল রাজকুমার সিং ওরফে রাজ সিংকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই।
গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় খুব কাছ থেকে গুলি করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে। জখম হন তাঁর গাড়ির চালকও। প্রথমে তদন্তে নামে রাজ্য পুলিশের সিট। উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে তল্লাশি চালিয়ে ১১ মে মায়াঙ্ক রাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য ও রাজ সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলার তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। এইকাণ্ডে গ্রেফতার আরও এক। চন্দ্রনাথ রথকাণ্ডের মামলায় উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে নবীন কুমার সিং নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। এই নিয়ে চন্দ্রনাথকাণ্ডে গ্রেপ্তার ষষ্ঠ অভিযুক্ত। বালিয়া জেলার যোগসূত্র সামনে আসতেই সিবিআই ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের যৌথ অভিযানে ফেফনা থানার থামহনপুরা গ্রামের বাসিন্দা নবীন কুমার সিংকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তার কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, দুটি রিভলভার, ৪৫ রাউন্ড কার্তুজ, তিনটি খালি খোল ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। নবীন সিং-এর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেই চন্দ্রনাথ রথের অপারেশন চালানো হয়।
চন্দ্রনাথ রথকাণ্ডের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোটা ঘটনায় তদন্তের জট আরও বাড়ছে। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, তদন্তের প্রথম পর্যায়ে এত বড় ভুল কীভাবে হল? যদিও পরে সিবিআইয়ের তদন্তে সামনে আসে আসল রাজ সিংয়ের পরিচয় এবং তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়। অন্যদিকে নবীন কুমার সিংয়ের গ্রেফতারির পর তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছে বলে মনে করছে তদন্তকারীরা। কারণ, তার কাছ থেকেই উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেই চন্দ্রনাথ রথের অপারেশনটি চালানো হয়। ফলে এই খুনের নেপথ্যে বৃহত্তর কোনও চক্র কাজ করেছে কি না, এখন সেই দিকেই নজর তদন্তকারীদের।