Nagpur, Jul 22 (ANI): Police personnel detain protesters as they demonstrate in front of Lok Bhawan against the alleged forcible arrest of Congress President Mallikarjun Kharge, Lok Sabha LoP Rahul Gandhi, and MP Priyanka Gandhi during their protest outside the Prime Minister's residence over student-related issues and the lathi-charge on youth protesters, in Nagpur on Wednesday. (ANI Photo)
হৃতিক রোশন, দিলজিৎ দোসাঞ্জ, নাসিরুদ্দিন শাহ, সোনাক্ষী সিনহা, রত্না পাঠক শাহ, শাবানা আজমি, প্রকাশ রাজ, টোভিনো থমাস এবং অতুল কুলকার্নি আগেই সমর্থন করেছিলেন আন্দোলনকে। এবার আরও এক বলিউড নেতা। এবার ছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে কলম ধরেন এই বলিউড সুপারস্টার। সোশাল মিডিয়ায় নিজের ছাত্রজীবনের সাদাকালো এক ছবি ভাগ করে নিয়ে বলিউড সুপারস্টার পাশে দাঁড়ান ছাত্র আন্দোলনের।

চলতি মাসের শুরুতে দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হয় ছাত্র আন্দোলন। নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। পরে এই আন্দোলনে যোগ দেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি অনশন কর্মসূচি শুরু করলেও পরে তাঁকে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সোমবারের চলো সংসদ কর্মসূচিকে ঘিরে। সংসদ অভিমুখে মিছিল এগোতে শুরু করলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটকাতে বলপ্রয়োগ করে। অভিযোগ, লাঠিচার্জ ও ধস্তাধস্তিতে বহু ছাত্রছাত্রী আহত হন। এরপর থেকেই আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
এখনও পর্যন্ত শাহরুখ-আমির থেকে অমিতাভ কিংবা কাপুর বংশের সদস্যরা পড়ুয়াদের আন্দোলন নিয়ে চুপ। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে দিল্লির রাজপথে যখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিনিদ্র রজনী কাটাচ্ছে, তখন ঠান্ডাঘরে বসে সেলেবমহল কি তামাশা দেখছেন? বিগত কয়েক দিন ধরেই প্রশ্নের মুখে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রথমসারির তারকাদের একাংশ। ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে মুখ না খোলায় কটাক্ষ, সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে একাধিক তারকাকে। এমন পরিস্থিতিতে জনপ্রিয় বলিউড সুপারস্টার সলমন খানের প্রকাশ্য সমর্থন আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলের একাংশ।
বুধবার গভীর রাতে নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় একটি দীর্ঘ বার্তা পোস্ট করেন সলমন খান। সেখানে তিনি লেখেন, এটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ একটি আন্দোলন ছিল। কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত হিংসাত্মক মোড় নেওয়ায় খুব খারাপ লেগেছে তাঁর। যাঁরা আহত হয়েছেন, সেই ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি অভিনেতা সমবেদনা জানান। প্রশ্ন ফাঁস অত্যন্ত গুরুতর একটি সমস্যা বলে জানান তিনি। দেশের পড়ুয়ারা একটি উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে একজোট হয় এবং তাঁদের পাশে অভিভাবকরাও দাঁড়িয়েছেন বলেও জানান তিনি। সরকার তাঁদের কথা শুনবে এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলেই আশা করেন ভাইজান। সলমনের এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ, এতদিন পর্যন্ত এই আন্দোলন নিয়ে বলিউডের প্রথম সারির তারকাদের খুব কমই সরব হতে দেখা গিয়েছিল। তাঁর বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা থেকেই দিল্লির যন্তর মন্তরের চারপাশে বিক্ষোভকারীদের ভিড় ক্রমে বাড়তে শুরু করে। এক পর্যায়ে ভিড় টলস্টয় মার্গ এবং পার্লামেন্ট স্ট্রিট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। জমায়েতগুলো ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সন্ধ্যায় কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে এবং লাঠিচার্জ করে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। বৃহস্পতিবার সকালেও যন্তর মন্তরে বহু বিক্ষোভকারী হাজির হন, অন্যদিকে পুলিশ এবং দাঙ্গাদমন বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স এর সদস্যরাও হাজির হয় সেখানে। যা নিয়ে সরব রাজনৈতিক মহল। বুধবার নতুন দিল্লির ৯এ, কোটলা মার্গে কংগ্রেসের সদর দফতরে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী বলেন, ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা একটি কারচুপিতে ভরা পদ্ধতি হয়ে উঠেছে। সাংবাদিক বৈঠকের প্রথমে প্রেজ়েন্টেশনের মাধ্যমে বিরোধী শিবিরের তিন দাবির কথা তুলে ধরেন রাহুল।
সংসদে বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা করতে রাজি সরকার। তবে কোনও শর্ত রাখা যাবে না বলে জানান সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু। আলোচনা করার হলে, প্রথমদিনই করা যেত, দ্বিতীয় দিন পেরিয়ে, তৃতীয় লাঠিচার্জ করার পর এখন আলোচনার গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস সভাপতি কিরণ রিজিজু।
ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক উত্তাপ আপাতত কমার কোনও ইঙ্গিত নেই। একদিকে প্রশ্নফাঁস, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং জবাবদিহির দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা, অন্যদিকে আলোচনা করতে প্রস্তুত সরকারের দাবি। বিরোধীদের অভিযোগ, লাঠিচার্জের পর আলোচনার প্রস্তাব বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। এই আবহেই সলমন খানের মতো প্রথম সারির বলিউড তারকার প্রকাশ্য সমর্থন আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এখন নজর, সংসদের আলোচনায় আদৌ কোনও সমাধানের পথ বেরোয়, নাকি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঘিরে এই সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হয়।