জে পি নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হলেন ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন তৃণমূল যুব সভাপতি ইমরান হাসান। বুধবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার দেউলা স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে উস্তি থানার পুলিশ। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ডায়মন্ড হারবারে সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে হামলার মুখে পড়েছিল বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার কনভয়। সেই ঘটনার প্রায় ছ’বছর পর গ্রেফতার হলেন ইমরান। তৃণমূল সরকারের আমলে তিনি মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল যুব সভাপতি ছিলেন। এর আগে এই মামলায় ফলতার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের নামও জড়ায়। হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকেও গ্রেফতার দেখিয়েছিল উস্তি থানার পুলিশ। ফলে পুরনো এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে, ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ডায়মন্ড হারবারে সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। সেই সময় তাঁর কনভয়কে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, নাড্ডার গাড়ি-সহ কনভয়ে থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্যস্তরের বিজেপি নেতার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। লাঠি এবং পতাকা লাগানোর ডান্ডা দিয়েও হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। ভাঙচুর করা হয় দিলীপ ঘোষের গাড়ির কাচ। ইটের আঘাতে আহত হন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। শিরাকোল মোড় থেকে ফলতা, একাধিক এলাকায় দফায় দফায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর গত ১৪ জুন নতুন করে এই মামলার তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে নেমে প্রথমে তৌসিফ আহমেদ, আরিফ হোসেন এবং আনিসুর রহমান নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও চার রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধারের দাবিও করা হয়। পরে এই মামলায় ফলতার প্রাক্তন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের নাম যুক্ত করে তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এবার সেই পুরনো হামলাকাণ্ডে নতুন করে গ্রেফতার হলেন ইমরান হাসান। এই ঘটনার পিছনে আরও কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছেন পুলিশ আধিকারিকরা।