ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি আগামী ৪ ও ৫ নভেম্বর দু’দিনের সরকারি সফরে নেপাল যাচ্ছেন। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এই সফরের কথা জানানো হয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই সফরে দু’দেশের পারস্পরিক স্বার্থ জড়িত বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন বিক্রম মিসরি। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের সহযোগিতাও ক্রমশ বেড়েছে। বিদেশ সচিবের এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত যোগাযোগের ধারাও বজায় থাকবে। পাশাপাশি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নেপালের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সে দেশের বিদেশ সচিব অমৃত বাহাদুর রাইয়ের আমন্ত্রণে নেপাল সফরে যাচ্ছেন বিক্রম মিসরি। এই সফরে ভারত ও নেপালের মধ্যে সম্পর্কের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি, পারস্পরিক স্বার্থ জড়িত নানা বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। সফর চলাকালীন নেপালের বিদেশ সচিব অমৃত বাহাদুর রাইয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন বিক্রম মিসরি। এছাড়াও নেপালের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তাঁর। ৫ নভেম্বর কাঠমান্ডু থেকে নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।
১৯৮৯ সালের ব্যাচের ভারতীয় বিদেশ পরিষেবার আধিকারিক বিক্রম মিসরি ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে বিদেশ সচিবের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এর আগে তিনি চিন, মায়ানমার ও স্পেনে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ডেপুটি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতের তিনজন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি তাঁর কার্যকালের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারত ও নেপালের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও সম্প্রতি আলোচনা হয়েছে। অক্টোবরের শেষ দিকে কাঠমান্ডুতে নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং ভারতের সশস্ত্র সীমা বলের মধ্যে দশম সমন্বয় বৈঠক হয়। সেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়ানো, অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য আদানপ্রদান এবং সীমান্তে সিসিটিভি ক্যামেরা, স্ক্যানার ও ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়াও বিদ্যুৎ, সীমান্তবর্তী বিদ্যুৎ পরিবহণ ব্যবস্থা, যোগাযোগ এবং বাণিজ্য নিয়েও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা চলছে। ভারত ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দু’দেশের মধ্যে খোলা সীমান্ত, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্র এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিক্রম মিসরির এই সফরে সেই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।