Puri, Jul 16 (ANI): Devotees carry Lord Jagannath to the chariot as they participate in Mahaprabhu Jagannath Rath Yatra at Puri Jagannath temple, in Puri on Thursday. (ANI Photo)
পুরীর জগন্নাথদেবের রথযাত্রায় লক্ষ লক্ষ ভক্তের ঢল, তার মাঝেই পৃথক দু’টি ঘটনায় মৃত্যু হল দুই পুণ্যার্থীর। বৃহস্পতিবার ওড়িশা সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, রথযাত্রা চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়া সাত জনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব এক ভক্তের মৃত্যু হয়েছে। ঠিক কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। অন্য একটি ঘটনায় ৩৫ বছরের বেশি বয়সি এক ভক্ত হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকেরা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর দফতর (সিএমও) জানিয়েছে, দিনভর টানা বৃষ্টি ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে আরও বহু ভক্ত অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ক্লান্তি, জলশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট-সহ নানা শারীরিক সমস্যায় আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার উন্নতি হলে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পদপিষ্ট হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়তেই তা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। ওড়িশার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুকেশ মহালিঙ্গ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘‘রথযাত্রায় কোনও পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেনি। এক ব্যক্তির শ্বাসকষ্টজনিত মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত চলছে। এত বিশাল জনসমাগমে কিছু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়তেই পারেন।’’ বিরোধী বিজেডির অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তিনি।
একই সুর শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির উপদেষ্টা প্রকাশ মিশ্রের গলাতেও। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এত বড় জনসমাগমে কারও কারও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। সাত জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে একজনের মৃত্যু হয়েছে, বাকিরা সুস্থ রয়েছেন।’’

সরকারের দাবি, রথযাত্রার প্রতিটি পর্ব পরিকল্পনা মাফিক সম্পন্ন হয়েছে। তিনটি রথ টানার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে শেষ হয়েছে। লক্ষাধিক নয়, প্রায় ৮ থেকে ৯ লক্ষ ভক্ত এ দিন পুরীতে সমবেত হয়েছিলেন। ওড়িশার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিদেশ থেকেও বহু মানুষ এই উৎসবে যোগ দেন।
রথযাত্রাকে ঘিরে আগে থেকেই বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পুলিশ, স্বাস্থ্য দফতর, দমকল, ওড্রাফ, এনডিআরএফ, পরিবহণ, পুর প্রশাসন, জনস্বাস্থ্য কারিগরি ও বিদ্যুৎ দফতর-সহ একাধিক সংস্থা সমন্বয় করে কাজ করেছে। সিসিটিভি নজরদারি, মাইকিং, ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ, পানীয় জলের ব্যবস্থা, চিকিৎসাকেন্দ্র, জরুরি উদ্ধারকারী দল— সবই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বলে প্রশাসনের দাবি।
এ বছরের রথযাত্রা ১৬ জুলাই শুরু হয়েছে। নয় দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি হবে ২৪ জুলাই বহুড়া যাত্রার মাধ্যমে। ২৭ জুলাই নীলাদ্রি বিজের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার মূল মন্দিরে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই ধর্মীয় উৎসব।